পাকিস্তানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

পাকিস্তানের লাহোরের গাজীবাদ থানা প্রাঙ্গণে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদারকিতে ব্যর্থতা ও অবহেলার অভিযোগে থানাটির স্টেশন হাউস অফিসারসহ (এসএইচও) সব পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরানের নির্দেশে মঙ্গলবারে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটার পর সোমবার গভীর রাতে তিনি গাজীবাদ থানা পরিদর্শন করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করা এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি না জানানোর কারণে তিনি এসএইচও এবং থানার পুরো স্টাফদের বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্ত উইংয়ের এএসআই ইমরান। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মামলায় প্রয়োজন রয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়ে ওই তরুণীকে মোটরসাইকেলে করে থানা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান তিনি। এরপর থানার ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে তাকে তিনি ধর্ষণ করেন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করেছে।

ডিআইজি কামরান গাজীবাদ থানায় কর্মরত এসএইচও, ২ জন সাব-ইনস্পেক্টর, ৮ জন এএসআই, ফ্রন্ট ডেস্ক স্টাফ এবং অন্য কর্মীসহ মোট ৭৮ জন সদস্যের সবাইকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দুর্বল নজরদারি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থানার ভেতরের প্রতিটি কার্যক্রম সম্পর্কে এসএইচওর অবগত থাকা উচিত।

লাহোর পুলিশের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে ডিআইজিকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, থানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কার্যকর তদারকি এবং পেশাদার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এসএইচও এবং সেখানে কর্মরত প্রতিটি কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব।

গণবরখাস্তের পর গাজীবাদ থানায় কার্যকর তদারকি ফেরাতে এবং থানার স্বাভাবিক কাজকর্ম নিশ্চিত করতে আলী জেব দস্তগীরকে নতুন এসএইচও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে পুলিশ তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সূত্র: গালফ নিউজ