ভারতের সরকারি স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে দেশটিতে শুরু হয়েছে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামের এক নতুন সামাজিক আন্দোলন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার মহারাষ্ট্রের হিংগোলি জেলার নিজ গ্রাম সন্তুক পিম্পরি থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বেসরকারি স্কুলের ফি নির্ধারণের দাবি জানান এবং সরকারি হাসপাতালের খারাপ অবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একটি জেলা পরিষদ স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীপকে। তিনি অভিযোগ করেন, স্কুলে বাথরুমে পানি নেই, ভাঙা জানালা ঢেকে রাখা হয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের রাজনৈতিক ব্যানারে, আর পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বসার জন্য বেঞ্চ রয়েছে মাত্র চারটি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৮০ বছর পরও যদি স্কুলে পানি না থাকে, তবে দেশ কীভাবে এগোবে? পানি না থাকলে শিক্ষার্থীরা কি শৌচাগার ব্যবহার করতে বাড়িতে যাবে?
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একটি চেকলিস্ট ও তথ্য সংগ্রহের ফরম তৈরি করেছে সিজেপি। মহারাষ্ট্রসহ সারা দেশের সরকারি স্কুলগুলো থেকে মৌলিক সুবিধার অভাব সংক্রান্ত ডেটা সংগ্রহ করে তা সংকলন করা হবে।
দীপকে অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ বছরে দেশে ৯৪ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে শিক্ষা বাজেট কমানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন সংসদ ভবন বা পিএম হাউস তৈরি হতে পারলে গ্রামের নতুন স্কুল কেন তৈরি হবে না? কৃষক বা শ্রমিকদের সন্তানরা কি দেশের ভবিষ্যৎ নয়?
অভিজিৎ দীপকে বেসরকারি স্কুলের ওপর দেড় লাখ রুপি পর্যন্ত ফি আদায়ের কঠোর সমালোচনা করে তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, যেমন রোগীদের মেঝেতে ঘুমানো বা সিটি স্ক্যানের জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করা নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের রাজনীতি কেবল শহরের মানুষ নির্ধারণ করবে না; গ্রামের যুবসমাজকে এগিয়ে এসে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে