নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২২, নিখোঁজ চার শতাধিক পর্যটক

নেপালের রাসুয়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রাসুয়ার তিমুরেতে নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৩২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৩০০ বিদেশিসহ চার শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

হাইড্রোপাওয়ার প্রমোটর বিজয় মোহন ভট্টরাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০ মেগাওয়াটের লাংটাং খোলা হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ৬০ জন কর্মীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার, চালক ও কিচেন স্টাফসহ ২৫ জন এবং টানেলের ভেতরে আরও ৩৫ জন কাজ করছিলেন। সকাল থেকে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল এবং দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষার কথা ছিল।

তিমুরেতে রাসুয়া কাস্টমস অফিসের প্রধান রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, অফিসের ১৫ জন কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানান, সেনাবাহিনী বন্যায় আটকে পড়া ৮৮ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ত্রিশূলী ক্যাম্পেও কিছু আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী ও বেসরকারি সংস্থার ১৫টি হেলিকপ্টার নিয়োজিত রয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার ফ্লাইট বারবার ব্যাহত হচ্ছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (টিআইএ) থেকে রাসুয়ায় ২৯টি বেসরকারি ও ৬টি সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়ে উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র, যার মধ্যে ২৩টি বেসরকারি ও ২টি সামরিক হেলিকপ্টার আহতদের নিয়ে ফিরে এসেছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ত্রাণবাহী তিনটি হেলিকপ্টার ফিরে আসতে বাধ্য হয়। টিআইএ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এবং সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী খড়গ রাজ পৌডেল নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনা সমন্বয় করছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ৮ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যারা ওই এলাকার একটি হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণকাজে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া আরও ১০ জন কোরিয়ান নাগরিক সেখানে আটকা পড়েছেন এবং নেপাল সরকার তাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মেলুং গ্রাম থেকে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তিমুরে, স্যাব রুবেসি ও বেত্রাবতীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ত্রিশূলী হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক সেতুর ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের (এনটিবি) ভারপ্রাপ্ত সিইও হিকমত সিং আয়ের বিবিসি নেপালিকে জানান, প্রায় ৪০০ জন পর্যটক, যার মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের একটি বড় অংশ তিব্বতের কৈলাশ মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। এনটিবি-র তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে রয়েছে ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১২ জন ব্রিটিশ, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলীয়, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বন্যা কবলিত এই পথটি লাংটাং ন্যাশনাল পার্ক ট্রেকিং এবং পাহাড়ের কোলে অবস্থিত পবিত্র হ্রদ গোসাইকুণ্ডের প্রধান প্রবেশপথ, যেখানে চলতি আগামী শুক্রবারে পালিত হতে যাওয়া রক্ষা বন্ধন উৎসবে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দর্শনার্থীরা যান।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও বিবিসি