নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ এখনও প্রায় দেড় হাজার

হিমালয় অঞ্চলের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বানের জলে ভেসে গিয়ে নেপাল ও তিব্বত উভয় সীমান্তে এখনও নিখোঁজ অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন। এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই উজান নদীতে একটি রুদ্ধ হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় প্রলয়ঙ্করী বন্যার নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

হিমবাহ ধসের পর বরফ ও পাথরের মিশ্রণে সৃষ্ট বিশাল তুষারধসের পর নেপালের রসুওয়া ও নুওয়াকোটের মতো এলাকাগুলো কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত ঘরবাড়ি, সরকারি অফিস, সেতু এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিমান ও সড়কপথে মোট ১ হাজার ৫৯২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিতওয়ান জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের ৪৪ জন সেনা কর্মকর্তা, ৪১ জন পুলিশ সদস্য এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও শুল্ক অফিসের প্রায় ১৬০ জন কর্মী রয়েছেন।

দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে নেপাল ও চীন। তিব্বতের ছুচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে তৈরি হওয়া রুদ্ধ হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে, যা ভেঙে পড়লে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্রলয়ঙ্করী প্লাবন সৃষ্টি হতে পারে। চীনা কর্তৃপক্ষ এবং নেপালের আবহাওয়া দফতর সবাইকে নদীর তীর থেকে দূরে ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প মনে করা হলেও, মূলত হিমবাহ ধসের কারণেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০টি বড় ও ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে স্বজনহারা মানুষের ভিড় ও হাহাকার দেখা গেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এবং চীনের প্রিমিয়ার লি খিয়াং নিজ নিজ দেশের উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিদেশি রাষ্ট্রগুলো এই কঠিন সময়ে নেপালের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে