জুতা সাজিয়ে রাখবেন না, প্যারামেডিকদের অদ্ভুত আবেদন

শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ জাপানি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলেও কখনও কখনও তা অতিমাত্রায় রূপ নিয়ে বিপত্তি ঘটাতে পারে। আর ঠিক এই নিয়েই এক অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী অনুরোধ জানিয়েছে জাপানের কানাঝাওয়া শহরের ফায়ার বিভাগ। জরুরি প্রয়োজনে কোনও বাড়িতে ঢোকার পর প্যারামেডিক বা জরুরি সেবা কর্মীদের খুলে রাখা জুতাগুলো গুছিয়ে না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ এতে দ্রুত হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।

জাপানি সংস্কৃতি অনুযায়ী ঘরে প্রবেশের আগে জুতা খোলা এবং মেহমানের সুবিধার জন্য গৃহকর্তার সেই জুতার মুখ দরজার দিকে ঘুরিয়ে গুছিয়ে রাখা বেশ স্বাভাবিক রীতি। তবে অগাস্টের ৫ তারিখে পোস্ট করা একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে দেখানো হয়, জরুরি সেবার তিনজন কর্মী স্ট্রেচারে রোগী বহন করার সময় কোনও ঝাঁকুনি না দিয়ে বা অক্সিজেনের মাস্ক না খুলে কীভাবে সরাসরি জুতার ভেতর পা গলিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন, সেভাবেই জুতা জোড়া সুনির্দিষ্ট জায়গায় ও কোণে খুলে রেখে আসেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে ফায়ার সার্ভিস কর্মী দাইসুকে ইয়ামাশিতা জানান, জরুরি দলের কর্মীরা তাদের ভূমিকা অনুযায়ী জুতার দিক ও অবস্থান নির্ধারণ করেন। কিন্তু কেউ যদি সরল মনে জুতাগুলোর অবস্থান বা মুখ বদলে দেন, তবে স্ট্রেচার নিয়ে বের হওয়ার সময় জুতা পরতে সমস্যা হয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় এতে প্রায় ৩০ সেকেন্ড সময় নষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই সৌজন্যবোধের প্রশংসা করি, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে জুতা না গুছিয়ে বরং রোগীর মাই নম্বর কার্ড (সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর) বা অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরি রাখা বেশি সুবিধাজনক।

ভিডিওটির নিচে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, আমি এটি জানতাম না, ভবিষ্যতে অবশ্যই মনে রাখব!

আবার ৮০০টিরও বেশি লাইক পাওয়া অন্য এক মন্তব্যে জরুরি মুহূর্তে শিষ্টাচার বজায় না রাখার পরামর্শ দিয়ে আরেকজন লিখেছেন, আরে এটি একটি জরুরি পরিস্থিতি, আমি তো কেবল বলব, দয়া করে জুতাসহই ঘরে চলে আসুন!

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান