নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮, এখনও নিখোঁজ শত শত

নেপালের উত্তর সীমান্তে ভটোকোশী নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। এতে রসুলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে এবং বরফ মেশানো পানির তীব্র স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ নদীর নিচের দিকে ভেসে গেছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে। নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর জানিয়েছে। 

নিহতের এই সংখ্যার মধ্যে রসুলার স্থানীয় অধিবাসী এবং নদীর দূরবর্তী নিম্নাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মৃতের এই সংখ্যাই যে চূড়ান্ত তা নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলার প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ড মিলিয়ে দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে তিমুরে এবং স্যাফ্রুবেশি এলাকায় বুধবারে প্রথম আঘাত হানে এই আকস্মিক বন্যা। সেখানে রাস্তাঘাট, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন পরিকাঠামো ধ্বংস করে বানের পানি দ্রুত গতিতে ত্রিশূলি নদী ব্যবস্থায় গিয়ে মিশে। বন্যার প্রচণ্ড তোড়ে মানুষ, যানবাহন ও অন্যান্য স্থাপনা ভেসে যায় এবং ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ভয়াবহ বিপর্যয়ের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তীর ও নিম্নাঞ্চলের লোকালয়গুলোতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহুদূরে নদীর তলদেশ থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকায় তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।