হিমালয় অঞ্চলজুড়ে নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দুর্যোগের চার দিন পর রবিবারের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯১ জনে। দুর্গম পাহাড়ি পথ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এখনও নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি মানুষের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নেপালেই এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
ক্রমাগত খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ভূমিধস, কাদা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়কের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হিমালয়ের দুর্গম গ্রামগুলোতে পৌঁছানো উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলায় আবহাওয়া সামান্য উন্নত হওয়ার পর হেলিকপ্টার চলাচল আবার শুরু হয়। আকাশপথে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর পাশাপাশি জীবিত উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর আশপাশে উদ্ধার অভিযান সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ত্রিশূলী ৩এ এবং ৩বি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনো ১০০ জনের বেশি কর্মী আটকে থাকতে পারেন।
নেপালের জ্বালানি মন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, একাধিক সুড়ঙ্গ এলাকায় বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘন কাদার স্তূপ ভেদ করে একটি সুড়ঙ্গে বাতাস পাম্প করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভেতরে ক্যামেরা পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। নেপালি বাহিনীর সঙ্গে ভারত ও চীন থেকে আসা বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং পর্বত উদ্ধার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করাই এই মুহূর্তে আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে থাকা হিমালয়ের উঁচুতে হিমবাহ ধসের পর নদীর উপত্যকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও পানি নিচে নেমে এসেছিল। তবে ওই হিমবাহ ধসের পর উঁচুতে একটি নতুন কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে বলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নেপালের জন্য ৩.৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরুরি মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তহবিলের আওতায় তাৎক্ষণিক জরুরি চাহিদা মেটাতে প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো নিশ্চিত করতে তারা নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ