হিমালয়ের শান্ত পাহাড় থেকে ভেসে এলো বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ। এর পরমুহূর্তেই ধসে পড়লো পুরো একটি বরফ ও পাথরের পর্বত। গত সপ্তাহে নেপালে সাড়ে সাত শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যার ঠিক আগের মুহূর্তের এক এক্সক্লুসিভ ফুটেজ হাতে পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। নিউ ইয়র্ক টাইমস যাচাইকৃত সেই ভিডিওটিতে গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লাংটাং লিরুং পর্বতচূড়ার কাছে হিমবাহ ধসের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের স্পষ্ট দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ঘটনার দিন সকালে তিব্বতের একটি পর্যটন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে একদল পর্যটককে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন জিহা ইতি নামের এক ট্যুর গাইড। জিহা জানান, সকালের ঘন কুয়াশা কাটতেই সাংবু রি পাহাড়ের ওপর হিমবাহটি স্পষ্ট দেখা যায় এবং তারা তা ক্যামেরায় ধারণ করতে শুরু করেন। ঠিক তখনই পর্বত থেকে মেঘের গর্জনের মতো একের পর এক বিকট আওয়াজ ভেসে আসতে থাকে, যা প্রথমে তারা বজ্রপাত বলে ভুল করেছিলেন।
তবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পর উপত্যকাজুড়ে হঠাৎ এক প্রচন্ড বিস্ফোরণে শব্দ শুনতে পান তারা। গাইড জিহার বর্ণনায়, মনে হচ্ছিলো পর্বতের ভেতরে একাধারে শত শত বিস্ফোরক ফুটছে। প্রথম ওই বিকট শব্দের পর টানা কয়েক মিনিট ধরে তুষারধসের আওয়াজ প্রতিধ্বনি হতে থাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা ধূলিঝড়ে ঢেকে যায়, যা দেখতে ঠিক বিশাল মাশরুম মেঘের মতো লাগছিল বলে জানান জিহা। এরপর আরও কয়েক মিনিট ধরে পর্বত থেকে ছোট ছোট বরফের টুকরো খসে পড়তে দেখা যায়। পাহাড় থেকে নিচে নেমে যখন তারা অবরুদ্ধ রাস্তাঘাট ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর শোনেন, কেবল তখনই এই ভয়াবহ দুর্যোগের প্রকৃত মাত্রা অনুধাবন করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ধসের আগের ও পরের ভিডিও তুলনা করে নিশ্চিত করেছে যে, কী বিশাল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়েছিল।
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় নেপালজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে হাজার হাজার শিশুর জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং বেঁচে ফেরা অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ আসতে শুরু করেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস