নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬, কারণ জানালো কর্তৃপক্ষ 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ৫০ বছরের পুরনো একটি ভবনের বেসমেন্টে মেরামতের কাজ করার সময় পিলারের ভারসাম্য ভেঙে পুরো ভবনটি ধসে পড়েছে। রবিবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ছয় জন নিহত এবং আরও ছয় জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানা যায়, জীর্ণ ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। বেসমেন্টে কাজ করার সময় একটি মূল পিলাটি ভেঙে পড়ে। ফলে পুরো ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য ধসে মাটিতে মিশে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমে থাকা পানি ও অবৈধ সংস্কার কাজের ফলে বেজমেন্টের পিলার দুর্বল হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়ায় ভবনটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে শেষ পর্যন্ত এটি ধসে যায়।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সোমবার জানিয়েছেন, বেসমেন্টে জমানো পানি এবং পুরনো অবকাঠামোতে সংস্কারকাজের সমন্বিত চাপেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি ছয় জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। দিল্লিরমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটির পাশে থাকা আরও একটি ৫০ বছরের ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনের বাসিন্দাদেরও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলেই পাশের ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

এমসিডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পাঁচতলা ভবনটিতে একটি ছেলেদের হোস্টেল ছিল এবং এটি প্রায় ৩০ বছরের পুরনো একটি একতলাসহ-পাঁচতলা (জি+৪) ভবন ছিল, যা একটি পুনর্বাসন কলোনির ৫৫ বর্গগজের উপর নির্মিত হয়েছিল, যেখানে আগে শুধুমাত্র একটি জি+১ ইউনিটের জন্য অনুমতি ছিল।