‘সুপার-আর্থ’কে গ্রাস করেছে সূর্য, দাবি বিজ্ঞানীদের

আমাদের সৌরজগতে কেন পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় পাথুরে গ্রহ ‘সুপার-আর্থ’ নেই এর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্য শৈশবেই এমন একটি গ্রহকে গিলে ফেলেছিল।
 
মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়েকশ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি ভরের একটি গ্রহ সূর্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার মধ্যে বিলীন হয়ে থাকতে পারে।
 
তুরস্কের এজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মুৎলু ইলদিজের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, সূর্যের অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের কয়েকটি রহস্য এই তত্ত্বের মাধ্যমে একসঙ্গে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা এতদিন সূর্যের বাহিরের অশান্ত স্তর ঠিক কতটা গভীর, সূর্যের কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ কীভাবে চলাচল করে এবং সূর্যের পৃষ্ঠে লিথিয়ামের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় এত কম কেন, এসব প্রশ্নের পুরোপুরি ব্যাখ্যা দিতে পারছিলেন না।
 
গবেষকরা সূর্যের বিবর্তনের উন্নত কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে দেখেছেন, সূর্য একটি সুপার-আর্থ গ্রহকে গিলে ফেলেছিল ধরে নিলে, পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মডেলের মিল বেশি পাওয়া যায়। তাদের মতে, ওই গ্রহটি সূর্যের ভেতরে রাসায়নিক পরিবর্তনের স্থায়ী চিহ্ন রাখতে পারে।
 
সৌরজগতের শুরুর দিকে সূর্যকে ঘিরে ঘন গ্যাস ও ধূলিকণার একটি চাকতি ছিল। সেই সময় ওই গ্রহটি ধীরে ধীরে সূর্যের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যায়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সূর্যের বাইরের স্তর অতিক্রম করার সময় গ্রহটি খুব সামান্য ভর হারিয়েও টিকে থাকতে পারে।
 
গবেষকদের মতে, এই সম্ভাবনা দেখায় যে, কোনও গ্রহ তার নক্ষত্রের মধ্যে বিলীন হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় পরেও সেই নক্ষত্রের অভ্যন্তরে তার রাসায়নিক ‘ছাপ’ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
 
সূত্র: এনিডিটিভ