১০ শিক্ষার্থীর জন্য দুর্গম পাহাড়ে দুই শিক্ষকের লড়াই

দক্ষিণ চীনের কুয়াংচি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের কুইচৌ প্রদেশের ঠিক সীমান্তে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম উয়িং। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এই গ্রামের ছোট শিশুদের পক্ষে প্রতিদিন হেঁটে গিয়ে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব। পাহাড়ি শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বছরের পর বছর ধরে এখানে চালু রয়েছে ‘উয়িং টিচিং সাইট’ নামের একটি প্রাথমিক পাঠশালা।

চলতি সেমিস্টারে এই পাঠশালায় মোট শিক্ষার্থী মাত্র ১০ জন, আর তাদের পড়ানোর দায়িত্বে রয়েছেন দুজন শিক্ষক। এই ক্ষুদ্র বিদ্যাপীঠটি সম্পূর্ণ টিকে রয়েছে দুই শিক্ষকের সীমাহীন ত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতার ওপর। কুইচৌ থেকে আসা ৫৬ বছর বয়সী প্যান সিয়ানফেং এবং কুয়াংসির ২৯ বছর বয়সী তরুণ পেং হানপিং ভিন্ন প্রজন্ম ও এলাকার মানুষ হলেও শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একসূত্রে বাঁধা পড়েছেন।

দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল জীবনযাত্রার কারণে এই গ্রামে দীর্ঘদিন কোনও শিক্ষক থাকতে চাইতেন না। তবে এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২০ সালের মার্চে কুইচৌয়ের সুবিধাজনক একটি স্কুল থেকে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে আসেন প্যান সিয়ানফেং। তার এই পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়াংসির প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে পাহাড়ি শিশুদের পাশে এসে দাঁড়ান পেং হানপিং।

শুধু শিশুদের বিদ্যাপীঠেই সীমাবদ্ধ নন এই শিক্ষক জুটি, প্রবীণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের আলো ছড়াতেও ভূমিকা রাখছেন। দিনের পাঠদান শেষে সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গ্রামের নাইট স্কুলে বসে স্থানীয়দের বর্ণমালা, মান্দারিন ভাষা শেখানোর পাশাপাশি নতুন বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

নিজের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রবীণ শিক্ষক প্যান সিয়ানফেং বলেন, যদি এই স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষার্থীও থাকে, তাহলেও আমরা এটা চালিয়ে যাব।

একই সুর ফুটে উঠেছে তরুণ শিক্ষক পেং হানপিংয়ের কণ্ঠেও, কাজটা যতই কঠিন হোক না কেন, ঘরের কাছে পাঠশালায় যদি এই শিশুরা নিরাপদে আসতে পারে, তবে আমাদের সব কষ্টই সার্থক।

সূত্র: সিএমজি