ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রেড লাইন’ জানালো চীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের আগে তাইওয়ান ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শি ফেং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাইওয়ান ও মানবাধিকার চীনের জন্য ‘রেড লাইন’, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের দিন ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রাষ্ট্রদূত শি ফেং লেখেন, মতপার্থক্য নিরসন নির্ভর করে সদিচ্ছার ওপর। চীনকে দমিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও জোরপূর্বক শ্রমের মতো অজুহাত তৈরি করা বন্ধ করা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সহযোগিতা করলে উভয়ই লাভবান হয়, কিন্তু মুখোমুখি সংঘাত হলে উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রাষ্ট্রদূত শি ফেং বলেন, চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থকে লঙ্ঘন করা যাবে না। চারটি রেড লাইন হলো-তাইওয়ান প্রশ্ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, উন্নয়নের পথ ও ব্যবস্থা এবং উন্নয়নের অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আশা করে যুক্তরাষ্ট্রও একই পথে হাঁটবে।

প্রজাতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং। তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী ও আন্তর্জাতিক সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে চীন। গত মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য আনুমানিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখেন এবং একে একটি দারুণ দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন।

তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে যেকোনও বিলম্ব তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমাবে বলে মনে করে বেইজিং। ফলে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের আশপাশে চাপ বাড়াতে চীন অতিরিক্ত সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিশ্রুতি কমানোর বিনিময়ে আঞ্চলিক ব্যাপক সহযোগিতার বার্তা দিতে পণ্য ক্রয় কিংবা মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় সহায়তার প্রলোভন ব্যবহার করতে পারে চীন। সম্প্রতি তাইওয়ান প্রণালি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ ও গবেষণা জাহাজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে চীনা সামরিক বাহিনী।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে একে দুই দেশের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি ও মূল স্বার্থ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে বেইজিংয়ে তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র জু ফেংলিয়ান বলেন, তাইওয়ান ইচ্ছাকৃত সংঘাত বাড়াচ্ছে এবং তাদের স্বাধীনতার ষড়যন্ত্রই তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের প্রধান কারণ।

একই দিনে পিপলস ডেইলিতে ঝং শেং ছদ্মনামে প্রকাশিত পৃথক নিবন্ধে বলা হয়, কৌশলগত প্রতিযোগিতার ভাবনা থেকে সরে না আসাই দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নীতিতে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নিশ্চিত ভাব এনে দিতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স