জাতিসংঘ অধিবেশনে কেন ভাষণ দিতে পারছেন না মিয়ানমারের দূত?

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার অধিকার থাকলেও চলতি সপ্তাহের বক্তার তালিকায় অনুপস্থিত মিয়ানমার। সামরিক জান্তার প্রকাশ্য বিরোধিতা করে গত পাঁচ বছর ধরে জাতিসংঘের স্থায়ী দূতের পদ ধরে রাখলেও সমঝোতা অনুযায়ী ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি কিয়াও মো তুন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়াও মো তুন জানান, বিশ্ব যে গৃহযুদ্ধকে প্রায় ভুলেই গেছে, সাধারণ পরিষদের হলে নিজের আসনে বসে তিনি নিঃশব্দে সেই কথাটিই মনে করিয়ে দেবেন। তবে আগে থেকে চলে আসা একটি সমঝোতার অংশ হিসেবেই তিনি ভাষণ দিচ্ছেন না।

২০২০ সালে তৎকালীন নির্বাচিত সরকার কিয়াও মো তুনকে জাতিসংঘে নিয়োগ দেয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক অগ্নিগর্ভ ভাষণে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। পরদিনই জান্তা সরকার তাকে বরখাস্তের ঘোষণা দেয়। তবে জাতিসংঘ এখনও অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন উৎখাত হওয়া সরকারকেই মিয়ানমারের বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গণ্য করে।

অন্যদিকে, তাকে অপসারণের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে সামরিক জান্তা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়াও মো তুন অনুমোদন ছাড়াই মিশন রেসিডেন্সে বাস করছেন ও সরকারি অর্থ ব্যবহার করছেন।

দূতাবাসের বাজেট সংকটের কথা জানিয়ে কিয়াও মো তুন গত মাসে জানান, খরচ কমাতে তাকে অধিকাংশ কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে। গত বছর থেকে তিনি কোনও বেতনও পাচ্ছেন না। তবে অন্যান্য স্থায়ী প্রতিনিধিদের মতো তিনি অস্ত্রবিরতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার মতো সাধারণ পরিষদের বিষয়ভিত্তিক কমিটিগুলোর কাজে নিজেকে যুক্ত রাখবেন।