চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ুননান প্রদেশে তাই নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে নানা প্রাচীন লোকগাথা ও ঐতিহ্য। এরই একটি অনন্য উদাহরণ কিন্নর নৃত্য।
তাই সম্প্রদায়ের পৌরাণিক কাহিনিতে কিন্নরকে বলা হয় অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক পাখির এক স্বর্গীয় সুরসাধক। বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন উপাখ্যান ও লোককথা থেকে উঠে আসা এই চরিত্রকে পবিত্র ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
কিন্নর-নৃত্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর পোশাক ও পরিবেশনা। শিল্পীরা মুখে শান্ত অভিব্যক্তির মাস্ক পরেন। আর পিঠে থাকে তিন মিটারেরও বেশি চওড়া সোনালি ডানা। এরপর ধীর ও ছন্দময় পদক্ষেপে তারা নৃত্য পরিবেশন করেন।
এই নৃত্যে নেই দ্রুতগতির কোনো মুদ্রা বা চটকদার কৌশল। বরং প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে ওঠে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার আবহ। সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও স্থানীয় বিভিন্ন উৎসবে এই নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
তাই সংস্কৃতির আরেক পরিচিত নৃত্য হলো ময়ূর নৃত্য। তবে কিন্নর নৃত্য তার থেকে একেবারেই আলাদা। ময়ূর নৃত্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও পাখির চলন অনুকরণ করা হয়, আর কিন্নর নৃত্য মূলত একটি পবিত্র চরিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক।
একসময় এই নৃত্য সীমাবদ্ধ ছিল স্থানীয় উপাসনালয় ও গ্রামীণ উৎসবের মধ্যে। এখন সেই গণ্ডি পেরিয়ে কিন্নর-নৃত্য জায়গা করে নিচ্ছে বড় মঞ্চে। ইয়ুননানের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ইতোমধ্যে প্রাদেশিক ‘অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নৃত্যটি ধরে রাখার পাশাপাশি এখন এর পরিবেশনা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও।
সূত্র: সিএমজি