প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সোমবার সকালে বিক্ষোভকারীদের বিশাল ভিড় ঠেলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভবনের দিকে এগিয়ে যান কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তার পেছনে বিপুল মানুষ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশের একাধিক স্তরের ব্যারিকেডে আটকে গেলে হঠাৎ ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন রাহুল এবং বড় আকারের জাতীয় পতাকা নাড়তে থাকেন। এতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতা-কর্মীরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান। ভোটার তালিকা কাট কার্যক্রম বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের অভিযোগে সিইসির পদত্যাগ চাইতে তারা বিপুল মানুষ জড়ো হয়।
এ সময় বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে রাহুলকে আটক করে পুলিশের বাসে তোলা হয়। তবে গান্ধী পরিবারের দুই সদস্য বাস থেকে লাফিয়ে নেমে ইসিআই ভবনের দিকে এগিয়ে যান। বিরোধী সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে ইসিআইয়ের সদর দফতর নির্বাচন সদনের দিকে যান। তাদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার। তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপরেখা ঠিক করেছে বিরোধী জোট। গত সপ্তাহের বৈঠকের পর থেকে কৌশল নির্ধারণে আলোচনা চালিয়ে আসছিল জোটটি। বিষয়টি শিরোনামে এসেছে এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী কক্ষরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিত্বে জেন-জির সমর্থনও পেয়েছে। সোমবার এসব বিষয় নিয়ে বৈঠক করে কংগ্রেস কৌশল ঠিক করেছে। দলটি এখন নির্বাচন কমিশনকে চিটিং কমিশন বলে উল্লেখ করছে।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ অক্টোবর ব্লক পর্যায়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচারণা চলবে। এতে থাকবে সাইকেল ও মোটরসাইকেল র্যালি, জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং দলীয় কর্মীদের লিফলেট বিতরণ। এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অংশগ্রহণে বুথ পর্যায়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ চৌপাল বা জনসভা হবে।
১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় দিল্লির আশপাশের এলাকা থেকে আলাদা ছয়টি মিছিল শুরু হবে, প্রতিটির নেতৃত্বে থাকবেন ভিন্ন নেতা। সংবিধান দিবস ২৬ নভেম্বর এসব মিছিল দিল্লিতে এসে মিলিত হবে।
আদালত জ্ঞানেশ কুমার ও ইসিআইকে নোটিস দিয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে না হলে তা স্থগিত হয়ে যেতে পারে। তবে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে এমন কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিষয়টির শুনানি চলবে।
সূত্র: এনডিটিভি