সোহেল আফ্রিদি কোথায়?

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর পিটিআই দাবি করেছে, ইসলামাবাদ অভিমুখে দলের বিক্ষোভ মার্চের নেতৃত্বে থাকা প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে আরও কয়েকজন নেতাসহ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রবিবারের এ ঘটনার পর তিনি এখন কার্যত নিখোঁজ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।

আফ্রিদির সঙ্গে মার্চে থাকা তার সহযোগী শাফি জান দাবি করেন, তার বসকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের সংসদ সদস্য শহীদ খট্টকও দাবি করেন, আফ্রিদি গ্রেফতার হয়েছেন।

পরে এক বিবৃতিতে পিটিআই আফ্রিদি ও দলের অন্য নেতাদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং প্রদেশের নির্বাচিত নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা বলে বর্ণনা করে।

তবে তার আটকের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ মেলেনি। সূত্র জানিয়েছে, আফ্রিদি ও পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি জুনাইদ আকবর মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডারের (এমপিও) ৩ ধারায় গৃহবন্দি আছেন।

দলের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরামের বরাতে বলা হয়, আফ্রিদির গ্রেফতারকে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটানো এবং প্রদেশের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

তার ভাষ্য, মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও জুনাইদ আকবরের গ্রেফতারে ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রকৃতি উন্মোচন করে দিয়েছে। এসব ব্যবস্থা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নয়; এর উদ্দেশ্য পিটিআইকে দুর্বল করা, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে ক্ষুণ্ন করা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা।

আকরাম আফ্রিদি, আকবর এবং পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ-সংক্রান্ত গ্রেফতার হওয়া অন্য সব রাজনৈতিক বন্দির অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী ও দলের প্রাদেশিক সভাপতিকে গ্রেফতারের আইনি ভিত্তি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রক্রিয়াগত ভিত্তি ফেডারেল সরকারকে প্রকাশ্যে জানানোরও দাবি তোলেন তিনি।

তবে পরে জিও নিউজে হাজির হয়ে তিনি কম নিশ্চিত সুরে বলেন, আফ্রিদি ও আকবরের গ্রেফতারের খবর দল পেয়েছে, কিন্তু জান ও খট্টকও হেফাজতে আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কেপিতে তারা কী তাণ্ডব চালিয়েছে, আপনারা জানেন না। মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে, আত্মগোপনে যাচ্ছে।

পিটিআইয়ের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক ক্লিপে দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা বলেন, আমরা জানি না সোহেল আফ্রিদি কোথায়, তাকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে। জুনাইদ আকবরও নিখোঁজ।

পিটিআই কেপির উপ-তথ্য সচিব ইকরাম খাতানা এক বিবৃতিতে বলেন, সোহেল আফ্রিদি, জুনাইদ আকবর, বাবর সালিম সোয়াতি ও শহীদ খট্টকের গ্রেফতার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ফেডারেল সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না।

এদিকে ফেডারেল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জিও নিউজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আফ্রিদি তাদের মধ্যে আছেন কিনা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, যারা কোনও মামলায় প্রয়োজনীয় নন, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ফৌজদারি মামলায় প্রয়োজনীয়দের সঙ্গে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাকিদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।