জাপানের ক্ষমতাসীনদের উচিত নিজ দেশের ন্যায়ের কণ্ঠস্বর শোনা এবং সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া। চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। সোমবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, সম্প্রতি জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাপান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন সমিতি’র চেয়ারম্যান চীন সফরকালে বলেছেন যে, চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতির জন্য জাপান নিজেই দায়ী এবং এ পরিস্থিতির উন্নয়নে জাপান সরকারেরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা জাপানের চীননীতিকে ভুল পথে পরিচালিত করছে বলে দেশটির ভেতরেই মত রয়েছে, এবং এ অবস্থায় জাপান সরকারকে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেগুলো সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে চীনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাও নিং বলেন, এসব বক্তব্য জাপানের দূরদর্শী ব্যক্তিদের যুক্তিবোধ ও বিবেকের প্রতিফলন। চীন এ ধরনের বক্তব্যকে স্বাগত জানায়।
তিনি আরও বলেন, তাদের কথায় সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে ইতিহাস ও চীন সম্পর্কে জাপানের ক্ষমতাসীনদের গুরুতর ভুল ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিচ্যুতির মধ্যে। এসব ভুল চীন-জাপান সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে।
চীন-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি নিয়ে মাও নিং বলেন, এ পরিস্থিতি কোনও পক্ষের স্বার্থেই নয় এবং এর সম্পূর্ণ দায় জাপানের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটির উচিত নিজ দেশের ন্যায়ের কণ্ঠস্বর শোনা ও সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া, সমস্যার মূল কারণের সরাসরি মোকাবিলা করা এবং চীন ও জাপানের মধ্যকার চারটি রাজনৈতিক দলিল মেনে চলা। একই সঙ্গে চীনের তাইওয়ান, ইতিহাস এবং চীন সম্পর্কে নিজেদের ভুল ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে সংশোধন করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: সিএমজি