ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের সঙ্গে অজিত দোভালের ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি ড. মোহসেন রেজায়ীর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। দুই দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে ইরানি দূতাবাস।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই কর্মকর্তা ভারত ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকটের এই সময়ে এই ফোনালাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চলমান উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে।

ওয়াশিংটন দ্বন্দ্ব অবসানের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। রবিবার রেজায়ী বলেন, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া ছিল অপর্যাপ্ত, যা দুই পক্ষের মধ্যকার চলমান ব্যবধানকেই তুলে ধরে।

ভারতের জন্য পশ্চিম এশিয়ার এই ঘটনাগুলো কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎস, বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং লাখ লাখ প্রবাসী ভারতীয় নাগরিকের বসতি, যাদের নিরাপত্তা নয়াদিল্লির কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। জলপথ ও জ্বালানি সরবরাহে যেকোনও ব্যাঘাত তেল ও পরিবহনের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ভারতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি তখন সংলাপ, কূটনীতি এবং নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে