ইন্দোনেশিয়ার বন ও পিটল্যান্ডে ভয়াবহ দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে দেশটির বিস্তৃত এলাকা। বাতাস পরিষ্কার করতে ও ধোঁয়াশা মুক্ত করতে এবার আকাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলকভাবে ‘শুষ্ক বরফ’ (কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড) ছিটানো শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছর শক্তিশালী এল নিনো’র প্রভাবে চরম খরার মুখোমুখি হয়ে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল মৌসুম পার করছে ইন্দোনেশিয়া। আশঙ্কাজনক এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার ধোঁয়াশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের আকাশে বিমান থেকে ১.৫ টন শুষ্ক বরফ ছিটানো হয়।
এর আগে বৃষ্টি ঘটানোর জন্য মেঘে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো হলেও শুষ্ক বরফের এই ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী দুদং আব্দুর রহমান বলেন, মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টি নামানোর বদলে এই শুষ্ক বরফ নিম্ন বায়ুমণ্ডলের ধোঁয়াশাকে ভেঙে দেবে, যাতে তা ওপরের দিকে উঠে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তবে মধ্য কালিমন্তন ও তার আশপাশের ধোঁয়াশাপূর্ণ অন্যান্য এলাকায় আমরা এ কার্যক্রম চালু রাখব।
দাবানল নেভানো ও বিষাক্ত ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে সব সংস্থাকে জোর তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওয়া সুবিয়ান্তো। স্বতন্ত্র বন পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম নুসানতারা অ্যাটলাস-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় ১০ লাখেরও বেশি দাবানল সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।
ধোঁয়াশার কারণে কালিমন্তন ও দক্ষিণ সুমাত্রার আকাশ তামাটে রঙ ধারণ করেছে। পাশাপাশি এই দূষিত বায়ু প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও জোহর বারুতে ক্লাউড সিডিং করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টির জন্য মালয়েশীয় সংস্থাকে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
কৃষিজমি পরিষ্কার করতে উদ্ভিদে আগুন দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। দাবানলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সূত্র: বিবিসি