বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন বরাবর আফগান বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষে পাকিস্তানের কমপক্ষে সাত জন সেনা নিহত হয়েছেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ও জঙ্গিদের চলাচল নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে, বিশেষ করে দান্দপাতান জেলায় কৌশলগত খারলাচি গেট এবং টপ সার ও কঞ্জ আলি সেক্টরের কাছে রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এ লড়াই শুরু হয়। তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে এবং আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ভয়ে পালিয়ে গেছেন। আফগান নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের গোলাগুলির জবাব দিয়েছে তাদের বাহিনী। তাদের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অননুমোদিত সীমান্ত চৌকি নির্মাণ করছিল। তাদের দাবি, লড়াইয়ে পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা হতাহত হয়েছেন।
তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আফগান সীমান্তরক্ষীদের দায়ী করে বলেছেন, পাকিস্তানের কুররাম জেলার চৌকিগুলোতে তারা গুলি চালিয়েছেন। এর জবাবে তাদের বাহিনী সমানুপাতিক প্রতিশোধমূলক পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। উভয়পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তাৎক্ষণিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সর্বশেষ এ সংঘর্ষ হলো এমন সময়, যখন জঙ্গি তৎপরতা, সীমান্তপারের হামলা ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে বারবার সীমান্তে সংঘাতের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আফগান ভূখণ্ড থেকে তৎপরতা চালানোর এবং পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবারও পাকিস্তানের কুররাম জেলায় উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবান সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তাদের সেনারা কামানের সহায়তায় তালেবানের অবস্থানে হামলা চালান এবং আফগানিস্তান থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন। ওই ঘটনায় তালেবান সরকার তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
সর্বশেষ লড়াই বিতর্কিত সীমান্তের নিরাপত্তার ভঙ্গুরতা তুলে ধরছে, যেখানে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গিদের চলাচল ও সামরিক মোতায়েন নিয়ে মতভেদ বারবার সশস্ত্র সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।