৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বোর্ডের নেতৃত্বে পাকিস্তান

দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (ডব্লিউবিজি) বোর্ড অব গভর্নরসের আগামী বছরের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হয়েছে পাকিস্তান। ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম দেশটি এ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলো। খবর বাসস।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার প্লেনারি অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়কমন্ত্রী এবং বিশ্বব্যাংকে দেশটির গভর্নর আহাদ খান চিমা ২০২৭ সালের জন্য এই যৌথ বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অর্জনকে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই দায়িত্ব লাভের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়নমূলক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

ব্যাংককের এই বার্ষিক সভায় ১৯১টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকসহ ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী আহাদ খান চিমা বিদায়ী চেয়ারম্যান কার্লোস কারভাল্লো স্পালডিং এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট আরাধনা কুমার-কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানান, পাকিস্তান উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, সহজ শর্তে জলবায়ু অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক ঋণ কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে পাকিস্তান নিজেই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে এবং আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ইএফএফ ও ১.৪ বিলিয়ন ডলারের আরএসএফ ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এ সংকটের মধ্যেই বিশ্ব আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারণী পদের এই দায়িত্ব পেলো ইসলামাবাদ।