তাইওয়ানে টাইফুন চাম্পির আঘাতে নিহত ১, আহত ৫০০

শনিবার তাইওয়ানের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টাইফুন চাম্পি। এতে একজন নিহত এবং ৫০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঝড়টি দুর্বল হতে হতে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরে এগোচ্ছে, তবে সেখানে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সুপার টাইফুন এবং এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি হয়ে ওঠা চাম্পি দুর্বল হচ্ছে। তবে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের কাছে এখনও প্রায় ঘণ্টায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) বেগে দমকা হাওয়া বইছে। সিডব্লিউএ জানায়, শনিবার ভোরে ইলান কাউন্টির উত্তর-পূর্ব উপকূল ছুঁয়ে যাওয়া ঝড়টি তাইওয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার (১০৬ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল।

মধ্যরাতের দিকে ঝড়ের কেন্দ্র দক্ষিণে মোড় নিয়ে ইলানের উপকূল ঘেঁষে এগোয়, তারপর উপকূলের বাইরে বিরল পাক খেয়ে উত্তরে সরে যায়। কিছু উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ার গতি ছুঁয়েছে ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার (১৪১ মাইল)। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং ছাদের জিনিসপত্র উড়ে গেছে।

ইলানে নিজের বাগানের উপড়ে পড়া কলাগাছ পরীক্ষা করতে করতে লিন পদবির এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, মধ্যরাতই ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। তিনি বলেন, এটি ছিল নির্ঘুম রাত। বহু বছর এমন কিছু দেখিনি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি উত্তরে মোড় নিয়ে চীনের উপকূল ঘেঁষে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানে ঢুকবে। তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানায়, নিহতের সংখ্যা একজন। লিউকিউ দ্বীপে ঢেউয়ে ভেসে যান এক পুরুষ। প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টিতে ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। তাইপাওয়ার জানায়, ২ লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ হারিয়েছিল, তবে বেশির ভাগের সংযোগ ফিরেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুক্রবার প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল, সে তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

রাজধানী তাইপেতে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং থেমে থেমে দমকা বৃষ্টি হয়েছে। তাইপের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী টমাস ওয়াং বলেন, ঝড়টি পোল্টারজিস্ট হরর ছবির মতো মনে হয়েছে। সকালে বাইরের টুকিটাকি কাজ সারতে বেরিয়ে তিনি বলেন, বেশ ভয়ের ছিল। তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সরকার শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে। টাইফুন গ্রীষ্মে বেশি হলেও শরতেও আঘাত হানতে পারে।

চাম্পি কাছাকাছি আসায় চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি দল পাঠিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে তারা। মন্ত্রণালয় জানায়, ৪০০ উদ্ধারকর্মী ও ৬০০ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী জরুরি দায়িত্বে আছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে ৩ হাজার ৮০০-র বেশি মাছ ধরার নৌকা বন্দরে ফিরেছে, উপকূলের বাইরে মাছ চাষের শ্রমিকদের তীরে আনা হয়েছে এবং দ্বীপে থাকা ২ হাজার ৮৪ পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ উপকূলের বাইরের ২৫টি নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করেছে এবং ১৮টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট স্থগিত করেছে।