মোদির বাপও যাবে, মেজাজ হারালেন কংগ্রেস সভাপতি

ভারতের পাটনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দর্শক সারি থেকে উঠে আসা মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার বিহারের পাটনায় ড. শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দর্শকদের মধ্য থেকে একজন বলে ওঠেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাবেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খাড়গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, মোদির বাপও যাবেন।

এর পরপরই খাড়গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বারবার মিথ্যা বলার অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে কালো টাকা ফেরত আনার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা কোথায়? পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শকে সাম্প্রদায়িকতার উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশে যতদিন আরএসএসের মতাদর্শ থাকবে, ততদিন শান্তি আসবে না।

এছাড়া আরএসএস ও বিজেপির মধ্যে অস্পৃশ্যতার মনোভাব বিদ্যমান বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। খাড়গে উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানীতে কংগ্রেসের একটি সভার পর রামলীলা ময়দানের মঞ্চ ‘শুদ্ধিকরণ’ করার ঘটনার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৮০ বছর পরও অস্পৃশ্যতা থাকলে দেশে কীভাবে ঐক্য আসবে?

খাড়গের মন্তব্যের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্সে পোস্ট করে বলেন, কংগ্রেস সভাপতি মোদির প্রয়াত পিতাকে নিয়ে ‘শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন’। গত ১২ বছরে টানা নির্বাচনি পরাজয়ের কারণে কংগ্রেসের এই হতাশা ও নীতিহীন রাজনীতির প্রকাশ ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিজেপির অন্যান্য শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও খাড়গের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী কংগ্রেস সভাপতিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।

তবে কংগ্রেস খাড়গের মন্তব্য ও অবস্থানকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে। দলটির এমপি পবন খেরা অভিযোগ করেন, উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানীতে খাড়গে একজন দলিত হওয়ার কারণেই মঞ্চ শুদ্ধিকরণের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সভা চলাকালে এক বিজেপি কর্মী চিৎকার শুরু করলে খাড়গে স্বাভাবিকভাবেই সেই জবাব দেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেলও মোদির অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাড়গের বক্তব্যকে পরিস্থিতিভিত্তিক ও চলতি ভাষার প্রতিক্রিয়া বলে বর্ণনা করেন।