‘আশা করি দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন’, দূষণ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ সংকট সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানিতে শস্যের খড় কেনার দাম বেশ আগেই ঘোষণা করা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোতে এর ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কঠোর দূষণবিরোধী পদক্ষেপ কার্যকর থাকা শহরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শুনানির শুরুতে রসিকতা করে বলেন, ‘আশা করি আপনারা সবাই দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন।’

শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অপরাজিতা সিং জানান, বায়ুদূষণ ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে এবং এখানকার বাতাসে শ্বাস নেওয়া দৈনিক ৩০টি সিগারেট খাওয়ার সমান। আদালত খড় পোড়ানো বন্ধের পাশাপাশি ধনাঢ্য শ্রেণির ব্যক্তিগত গাড়ির ধোঁয়াকেও দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘আমরা খড় পোড়ানো নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছি... কিন্তু অভিজাত শ্রেণির মানুষ ও তাদের উচ্চমানের গাড়ির বিষয়ে কী হবে?’ অপরাজিতা সিংও সায় দিয়ে জানান, পরিবহনই দিল্লির বায়ুদূষণের প্রধান উৎস।

কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, বিএস-৬ মানের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনও যানবাহনকে দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ডিজেলচালিত রিকশা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিতে ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শীতকালে দিল্লির বাতাস সরতে পারে না উল্লেখ করে ভাটি বলেন, ‘আমি বলব না যে এই পদক্ষেপগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।’

এর জবাবে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-এর উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কিন্তু একিউআই তো ইতোমধ্যে ৪০০ স্পর্শ করছে।’ উত্তরে ভাটি জানান, দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ চালু থাকলেও উৎসবের মৌসুমের কারণেও দূষণের মাত্রা বেড়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি