পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলাকে খরাকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ। জেলাটির সাতটি তালুকায় খরার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়ার পর শনিবার এ ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম শুরু, সুপেয় পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ খবর জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৈয়দ মুরাদ আলী শাহকে জেলার সাতটি তালুকার খরার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, এসব এলাকায় চাষ করা ফসলের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে অথবা উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার ও মুখতিয়ারকারদের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফসল টিকে আছে।
অপর্যাপ্ত ও অসম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি, গবাদিপশু এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে মরুভূমি অধ্যুষিত এই জেলার মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস গবাদিপশু রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য সচিবকে অকেজো হয়ে পড়া সব রিভার্স অসমোসিস পানি শোধনাগার দ্রুত মেরামত করে চালুর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরবচ্ছিন্নভাবে সুপেয় পানি পান।
খরার কারণে পশুখাদ্যের সংকট মোকাবিলা এবং গবাদিপশু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার থরপারকারের মানুষের পাশে থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনও জনগোষ্ঠী যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।