ভারী বৃষ্টিতে চীনে বন্যা সতর্কতা, সরানো হলো ৩৭ হাজারের বেশি মানুষকে

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৩৭ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য জানিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বুধবার পর্যন্ত প্রদেশটিতে লেভেল-৩ বন্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং লেভেল-৪ দুর্যোগ ত্রাণ জরুরি প্রতিক্রিয়া জারি করা হয়েছে। বন্যার ঝুঁকির কারণে ঝুহাই এবং শেনজেনসহ বেশ কয়েকটি শহরের স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে চায়না রেলওয়ে গুয়াংঝু গ্রুপ ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে গুয়াংডং ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কর্পস গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ২৪৭ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী, ৫৩টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং ৩৭টি নৌকা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বাঁধ ও জলাশয়গুলো পরিদর্শনের জন্য প্রাদেশিক পানিসম্পদ বিভাগ ৪১ হাজার ৭৬৮ জন কর্মী নিয়োজিত করেছে।

টানা ও ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ৭ হাজার ২২৬ জন জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, ২ হাজার ৯৯৪টি সহায়তাকারী যান এবং ২,১০৮টি জেনারেটর মোতায়েন করেছে। তবে প্রাদেশিক জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণ গুয়াংডং জুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি বা মেঘভাঙা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে পুরো প্রদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

জি২০ ক্লাইমেট রিস্ক অ্যাটলাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রতিবেদনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণের উচ্চ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশটিকে আরও বেশি ক্ষতিকর জলবায়ুজনিত প্রভাবের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে নির্গমন কমানোর পদক্ষেপ না নিলে চীনে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব ১ হাজার ৫৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২ শতাংশ বাড়তে পারে। এছাড়া চরম আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সূত্র: উইয়ন নিউজ