সংগীত তারকা থেকে ফার্স্ট লেডি: কে এই পেং লিয়ুয়ান?

১১ বছর পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যকার এই সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জটিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ওপরই মূলত সবার নজর। তবে এই আলোচনার পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট পরিদর্শন এবং বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেওয়া ছাড়াও পেং লিয়ুয়ানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক কূটনীতির কর্মসূচি রয়েছে।

১৯৬২ সালে শানডং প্রদেশে শৈল্পিক পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন পেং লিয়ুয়ান। তার মা ছিলেন চীনা অপেরা শিল্পী এবং পেং নিজেও একজন খ্যাতিমান লোক ও সোপ্রানো গায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন। তবে পরিবারের কিছু আত্মীয় তাইওয়ানিজ আর্মিতে কাজ করার কারণে তার পরিবার একসময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছিল। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১৪ বছর বয়সে তিনি শানডং ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ভর্তি হন। পরে ১৯৮০ সালে পিপলস লিবারেশন আর্মিতে (পিএলএ) যোগ দিয়ে তিনি জাতীয় তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।

১৯৮৬ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে শিয়ামেন শহরের তৎকালীন উপমেয়র ৩৩ বছর বয়সী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় পেং লিয়ুয়ানের। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯২ সালে তাদের কন্যা শি মিংজে জন্ম নেয়। দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকে চীনের জনসাধারণের কাছে পেং লিয়ুয়ানই বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় তারকা ছিলেন। একসময় চীনে রসিকতা করে বলা হতো- ‘শি জিনপিং কে? তিনি তো পং লিয়ুয়ানের স্বামী!’ তবে ২০১২ সালে শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই সমীকরণ বদলে যায়।

চীনের অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর জীবনসঙ্গীরা সাধারণত আড়ালে থাকলেও পেং লিয়ুয়ান ব্যতিক্রম। তিনি স্বামীর পাশাপাশি নিজের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যক্ষ্মা ও এইচআইভি-এইডস বিষয়ক শুভেচ্ছাদূত এবং ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর নারী ও বালিকা শিক্ষার বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান তিনি। এ ছাড়া ফ্যাশন সচেতনতা ও মার্জিত পোশাকের জন্য তিনি বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন এবং ২০১৩ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে ‘মামা পেং’ বা ‘মা পেং’ হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট