ঘুমানোর সময় শরীরে অক্সিজেনের অভাব কেবল ফুসফুস বা মস্তিষ্কের জন্যই সমস্যা সৃষ্টি করে না- এটি পুরুষদের অণ্ডকোষের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। সম্প্রতি ‘স্লিপ মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ঘুমে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে পুরুষত্বহীনতা না ঘটলেও এটি শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।
প্রজননক্ষম ৭২ জন চিকিৎসাবিহীন স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত পুরুষের সঙ্গে ২২ জন সুস্থ পুরুষের তুলনা করেন গবেষকরা। এতে দেখা যায়, ঘুমের সমস্যা থাকা রোগীদের বীজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তাদের বীজে শুক্রাণুর সংখ্যা কম ছিল এবং এতে বেশ কয়েকটি প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদানের উচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, রাতে বিচ্ছিন্ন ঘুম এবং অক্সিজেনের অভাব শুক্রাণুর অচল হয়ে পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এটি কোনও ব্যক্তির সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে বা নাও করতে পারে; তবে গবেষকদের মতে, এই বিষয়গুলো পুরুষ প্রজনন ক্ষমতার প্রধান নির্ধারক। তবে আশার কথা হলো, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ২৫ জন রোগীকে যখন ‘সিপ্যাপ’ যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তখন মাত্র ১ মাসের মধ্যে তাদের শুক্রাণুর গতিশীলতায় উন্নতি দেখা যায়।
গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, সিপ্যাপ থেরাপি শুক্রাণুর গতিশীলতার দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি ঘটায়। তাই যেসব পুরুষের বীজে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তাদের ঘুমে শ্বাসকষ্ট আছে কি না তা মূল্যায়ন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘটে যখন ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়, যা বিকট শব্দে নাক ডাকা এবং মাঝে মাঝে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৩০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি চারজন পুরুষের মধ্যে একজন এই সমস্যায় ভোগেন। এটি শুধুমাত্র শারীরিক ক্লান্তি তৈরি করে না, বরং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।
অতীতে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে পুরুষত্বহীনতার সম্পর্ক রয়েছে। তবে শুক্রাণু কীভাবে প্রভাবিত হয় সে বিষয়ে প্রমাণের অভাব ছিল। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের ইউরোলজিস্টরা ‘নেচার রিভিউজ ইউরোলজি’-তে লিখেছিলেন, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব মূল্যায়নে ‘স্লিপ মেডিসিন’ বা ঘুম সংক্রান্ত চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
চীনার ইউনিভার্সিটি অব হংকং-শেনজেন হাসপাতালের গবেষকদের পরিচালিত এই নতুন গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও গবেষকরা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অজানা বিষয়ে আলো ফেলেছে।
গবেষণায় ২৫ জন অংশগ্রহণকারী প্রতি রাতে চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় সিপ্যাপ যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করেন। এক মাস পর দেখা যায়, তাদের প্রগ্রেসিভ গতিশীল শুক্রাণুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
গবেষকরা উপসংহারে বলেছেন, ঘুমে শ্বাসকষ্ট এবং স্থানীয় সেমিনাল মাইক্রোএনভায়রনমেন্টাল প্রদাহ যৌথভাবে শুক্রাণুর কার্যকারিতা হ্রাস করার সঙ্গে জড়িত। চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদী প্রজনন সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে দলটি আরও বড় পরিসরে গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স এলার্ট