শতবর্ষ আগে ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর ভারদুনে দীর্ঘ ১০ মাস যুদ্ধ চলেছিল। এটাই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘ যুদ্ধ। এতে ফ্রান্স ও জার্মানির তিন লাখ সেনা নিহত হয়েছিলেন। যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স বিজয়ী হয়। বর্তমানে ভারদুনকে ফ্রান্স ও জার্মানির সমঝোতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
ভারদুনের উত্তরে জার্মান সেনাবাহিনীর সমাধিক্ষেত্রে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এখানে ১১ হাজার নিহত জার্মান সেনাকে সমাহিত করা হয়েছে। এরপর ওঁলাদ ও মরকেল ভারদুন সিটি হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ভারদুন যে এখন ফ্রান্স ও জার্মানির সমঝোতার প্রতীক, তা দুদেশের নেতাদের বক্তব্যেও ওঠে এসেছে। অ্যাঞ্জেলো মরকেল তার বক্তব্যে বলেন, যারা মনে করে অতীত শিক্ষা দেয়, তারাই উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তোলতে পারে। ওঁলাদও তার বক্তব্যে ফ্রান্স-জার্মানির সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেরকেলের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারদুন দুর্দশা নয় আশার প্রতীক।
মূল আয়োজন ওসুয়ারিতে স্থানীয় সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রায় ৪ হাজার শিশু নৃত্যে অংশগ্রহণ করবে। এখানে ফ্রান্সের অজ্ঞাত ১ লাখ ৩০ হাজার যোদ্ধার সমাধি রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্রন্ট লাইন ছিল এই ভারদুন। ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধ শেষে ফ্রান্স জার্মানির দখলে যাওয়া প্রায় সব ভূখণ্ডই পুনর্দখল করে। ফ্রান্সের মতো জার্মানিরও এ যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ভারদুন যুদ্ধের সময় ৬ কোটি শেল ছুড়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ বিস্ফোরিত হয়েছিল। ফলে ওই যুদ্ধক্ষেত্রটিতে আবাসন ও কৃষিকাজ এখনও নিষিদ্ধ। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/