এবার সাগরে পাওয়া গেলো নিখোঁজ সুইডিশ সাংবাদিকের কাটা মাথা

ডেনমার্কের এক 'আবিষ্কারকের' নিজের তৈরি সাবমেরিনে বেড়াতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এক সুইডিশ নারী সাংবাদিকের কাটা মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগেই তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।  কোপেনহাগেনের দক্ষিণে কোগ উপসাগর থেকে ডুবুরিরা সাংবাদিক কিম ওয়ালের মাথা, পা ও কাপড়চোপড় উদ্ধার করে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ২১ আগস্ট এই এলাকার কাছে কাছেই কিমের দেহ পাওয়া যায়। কাটা মাথাটি কিম ওয়ালের।

_98217760__97315434_sub-composite

সৌখিন আবিষ্কারক পিটার ম্যাডসেনের সাবমেরিনে বেড়াতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক কিম ওয়াল। তিনি এই সাবমেরিন নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখতে চেয়েছিলেন। ওইদিনই তাকে সর্বশেষ জীবিত দেখা গিয়েছিল। 

ম্যাডসেনের বিরুদ্ধে কিম ওয়ালকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ম্যাডসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তার দাবি, সাবমেরিনের গোল দরজায় মাথা ঠুকে যাওয়ায় কিমের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কাটা মাথাটিতে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাননি তদন্তকারীরা।

সাবমেরিনে বেড়াতে যাওয়ার পর থেকে কিম ওয়ালের কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার বন্ধু পুলিশে খবর দেন।  জানা গেছে, ম্যাডসেন একজন সৌখিন প্রকৌশলী। সাবমেরিন ও মহাশূন্যগামী রকেট নির্মাতা। তার একটি নিজস্ব ল্যাবরেটরিও আছে। ম্যাডসেন নিজেই ইউসি-থ্রি ধরণের এক নটিলাস সাবমেরিন তৈরি করেছেন। এই সাবমেরিনেই কিম ওয়াল বেড়াতে গিয়েছিলেন। ডেনমার্কের উপকূলে সাবমেরিনটি ডুবে গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মোলার জেনসেন জানান, আমরা যে ব্যাগগুলো পেয়েছি তার একটিতে কিম ওয়ালের কাপড়চোপড়, মোজা এবং জুতো ছিল। তাছাড়া ছিল একটি ছুরি। ব্যাগগুলোতে গাড়ির পাইপ ভরে তা ভারি করা হয়েছিল। 

ম্যাডসেন কিম নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে বলেছিলেন তিনি তাকে নিরাপদে কোপেনহাগেনে নামিয়ে দিয়েছেন। পরে তিনি আবার তার গল্প পরিবর্তন করে বলেন, সেখানে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হয়েছিল এবং তিনি কিম ওয়ালকে সাগরে কবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এর পর তিনি তার সাবমেরিনটি ডুবিয়ে দিয়ে নিজে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

কিম ওয়ালের দেহ পাওয়ার পর তার ময়নাতদন্ত করে দেখা যায়, যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ রয়েছে। 

সরকারি কৌঁসুলি আদালতে বলেছেন, ম্যাডসেনের একটি কমিপউটারের হার্ডড্রাইভে একজন নারীকে জীবন্ত অবস্থায় মাথা কাটা হচ্ছে - এমন একটি দৃশ্যের ভিডিও পাওয়া গেছে। যদিও ম্যাডসেনের দাবি, ওই হার্ডড্রাইভ তার নয়। তাকে চার সপ্তাহের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।