স্নোডেন, অ্যাসাঞ্জ ও ম্যানিংয়ের প্রতিমূর্তি উন্মোচিত হলো বার্লিনে

গ্রিন পার্টির সদস্যদের উদ্যোগে জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত আলেকজান্ডারপ্লাটজে উন্মোচিত হয়েছে স্নোডেন, অ্যাসাঞ্জ ও ম্যানিংয়ের প্রতিমূর্তি। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে তারা তিনজনই অনেকের কাছে নায়কের মর্যাদা পেয়েছেন। যে শিল্পকর্মটির অংশ তাদের ওই তিনজনের প্রতিমুর্তি তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এনিথিং টু সে।’ কারণ তিনটি চেয়ারের ওপর বসানো ওই ৩ জনের প্রতিমূর্তির পাশে একটি খালি চেয়ার রাখা হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে যে কেউ  বক্তব্য রাখতে পারেন। সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজ জানিয়েছে, ব্রোঞ্জে নির্মিত ওই প্রতিমূর্তিগুলো তৈরি করেছেন ইতালীয় ভাস্কর ডেভিড  ডোরমিনো।anything-to-say

ইউরো নিউজকে ভাস্কর ডোরমিনো বলেছেন, ‘তিনি এরা তিনজন সমসাময়িককালে আমাদের নায়ক, যারা সত্যের জন্য তাদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ওই ভূমিকা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্য জানাটা এবং সত্য জানার সাহস থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ ‘এনিথিং টু সে’ নামের ওই ভাষ্কার্যটি বাক স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিমূর্তি বানিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে যে তিনজনকে তাদের একজন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তিনি উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা। ওয়েবসাইটটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গোপন নথি ফাঁস করে দেওয়া হয়েছিল। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে যৌন হয়রানির মামলা হয়েছে। ওই মামলার কারণে যুক্তরাজ্য তাকে সুইডেনের হাতে তুলে দিতে পারে এবং সুইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত সেখানেই রয়েছেন তিনি। সর্বশেষ স্পেনের ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী নেতার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করলে তার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা বন্ধ করে দেয় ইকুয়েডর।

অপর একজন হচ্ছেন অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির’ (এনএসএ) গোপন নথি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এতে করে সাংবাদিকরা জানতে পেরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়িত নজরদারি ব্যবস্থা কতটা ব্যাপক। তার ফাঁস করা তথ্য থেকেই জানা যায় যুক্তরাষ্ট্র ফেসবুক গুগলের মতো ওয়েবসাইটে রক্ষিত ব্যবহারকারীর তথ্য বি না অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারত। যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে বাঁচতে এখন তিনি রাশিয়াতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

সর্বশেষ জন চেলসিয়া ম্যানিং। ম্যানিং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তার আগের নাম ছিল ব্র্যাডলি ম্যানিং। ম্যানিংও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী গোপন নথি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তার দেওয়া তথ্য পৌঁছেছিল উইকিলিকসে। বর্তমানে ম্যানিং ৩৫ বছরের কারাদণ্ডদেশের কারণে জেল খাটছেন।