অস্ট্রিয়ায় ইহুদি ও মুসলমানবিদ্বেষী আইনের উদ্যোগ

হালাল মাংস কেনা মুসলমান ও কোশার মাংস কেনা ইহুদিদের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে চায় অস্ট্রিয়ার একটি প্রদেশের সরকার। আইনটি বাস্তবায়িত হলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি হালাল ও কোশার মাংস বিক্রি করা যাবে না। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে হালাল ও কোশার মাংস কেনার বলবৎ থাকলেও রেস্টুরেন্টেগুলো ধর্মীয় বিধি মেনে হওয়া পশুর মাংস সংগ্রহে বিপাকে পড়বে। সংশ্লিষ্টরা সমালোচনা করে এ উদ্যোগের সঙ্গে হিটলারের সময়কার নিপীড়নমূলক বিধি-বিধানের তুলনা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, প্রাদেশিক ওই ডানপন্থী দলটির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার।4NQ6WODS4I3AJOA6B2NQRHB2LU

আদতে হিটলারের জন্ম অস্ট্রিয়াতেই। সেখানকার লোয়ার অস্ট্রিয়া প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে ‘ফ্রিডম পার্টি অফ অস্ট্রিয়া’ (এফপিও)। দলটির বিরুদ্ধে আগেও ইহুদিবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার আত্মপক্ষ সমর্থনে তাদের মুখপাত্র আলেক্সান্ডার মুরলাসিত দাবি করেছেন, হালাল মাংস ক্রেতা মুসলমান ও কোশার মাংস কেনা ইহুদিদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার আইনটি ২০১৭ সালেই প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেসময় ক্ষমতায় ছিল ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা।’ তারাই আইনটির প্রস্তাব করেন। মুরলাসিতের ভাষ্য, ‘আমরা যা করছি তা শুধু প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। এটা ধর্মের বিষয় নয়। এর উদ্দেশ্য পশু অধিকার নিশ্চিত করা।’ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা এফপিওর দাবি অস্বীকার করেছে।

বার্লিনভিত্তিক ইহুদিদের সংগঠন ‘আমেরিকান জিউইশ কমিটি’ হালাল ও কোশার মাংস ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার এই চেষ্টার সমালোচনা করে বলেছে, ‘এই উদ্যোগ ইহুদি ও মুসলমানদের জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর করা আক্রমণ। এরপর কি? গায়ে তারা সেঁটে ঘুরতে হবে?’ তারা বলতে ডেভিডের তারা চিহ্নের কথা বলা হয়েছে, নাৎসি শাসনকালে ইহুদিদের ওই তারা চিহ্ন পরিধান করা বাধ্যতামূলক ছিল। ভিয়েনার ‘ইসরায়েলি কালচারাল কমিউনিটি এসোসিয়েশন’ প্রস্তাবিত আইনকে ‘আর্য আইন’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মুরলাসিত সোশাল ডেমোক্র্যাটদের যে আইনের কথা উল্লেখ করেছেন তা আদতে হালাল ও ও কোশার মাংস বিক্রি করেন এমন মাংস ব্যবসায়ীদের রেজিস্ট্রেশনের আইন। যেহেতু কসাইদের বিভিন্ন বিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেহেতু ওই রেজিস্ট্রেশনের আইন প্রস্তাব করা হয়েছিল। ডানপন্থী এফপিও সেটাকে ব্যবহার করেই ইহুদি ও মুসলমান মাংস ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (২০ জুলাই) প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কোশার বা হালাল মাংস ক্রেতা ইহুদি ও মুসলমানদের রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিতভাবেই অস্ট্রিয়াতে কার্যকর করা হবে না। অস্ট্রিয়ান জিউইস কমিটির সভাপতিকে আমরা আশ্বস্ত করছি, তার আশঙ্কা সত্য হবে না।’

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সরকার গঠনের পর থেকে এফপিও প্রকাশ্যে অ্যান্টি-সেমেটিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কিন্তু দলটির অনেক নেতাই ডানপন্থী প্রকাশনায় বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ খরচ করেছেন।

ইহুদি ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোশার ও হালাল উপায়ে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে তারা পশুকে অচেতন করেন না। আর সেটাই পশুটির জন্য কম কষ্টকর। তবে সংশ্লিষ্টরা এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পশু অধিকার কর্মীদের এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।