ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ভিক্তর মুঝেনকো বলেছেন, অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকা রাশিয়ান হুমকি মোকাবিলায় দেশটি পাঁচ দিনব্যাপী সামরিক মহড়া চালিয়েছে। রুশ প্রভাবাধীন এলাকায় মোতায়েন করেছে অতিরিক্ত সেনা বহর। এর পাশাপাশি আজভ সাগরে একটি বন্দর স্থাপনের কথাও ভাবছে। কিন্তু ইউক্রেনের মহড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট হাঙ্গেরি। কারণ মহড়ার কিছু অংশ অনুষ্ঠিত হয়েছে হাঙ্গেরির সীমান্তের কাছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হাঙ্গেরির সঙ্গে দেশটির বর্তমানে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে ইউক্রেনের স্কুলে হাঙ্গেরীয় ভাষা চালু করা নিয়ে।
ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে ক্রিমিয়া দখলকে কেন্দ্র করে। ২০১৪ সালে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলনের সূত্রে সামরিক অভিযান চালায় ইউক্রেন। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মধ্যে হওয়া যুদ্ধে মারা যায় ১০ হাজার মানুষ। ন্যাটো ও ইউক্রেন এ ঘটনার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সেনাবল ও ভারি অস্ত্র যোগান দেওয়ার অভিযোগ আনে। রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ক্রিমিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ভিক্তর মুঝেনকো রয়টার্সকে বলেছেন, রাশিয়া ডনবাস এলাকায় আর কোনও আড়াল না রেখেই যুদ্ধ করছে। এখন সেখানে তারা সরাসরি তাদের সেনা সদস্যদের পাঠাচ্ছে। ডনবাস অঞ্চলটি রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহী অধ্যুষিত।
আজভ সাগর কৃষ্ণ সাগরে একটি খুবই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশেরই সমুদ্র সীমা রয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ওই সাগর দিয়ে ইউক্রেনের বন্দরে যাওয়া-আসাকারী জাহাজগুলোকে তল্লাশির নামে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এমন কি আটক করে রাখার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এ অভিযোগের প্রতি সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তারা ইউক্রেনকে টহল নৌযান দিয়েছে। তবে ইউক্রেনের নৌ বাহিনীর পাহারায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সাগরের ওই এলাকা পার করে দেওয়ার প্রস্তাবে দ্বিমত জানান জেনারেল মুঝেনকো।
রয়টার্সের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল মুঝেনকোর যেদিন কথা হয় সেদিন ইউক্রেনের পাঁচ দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার শেষ দিন। এই মহড়ার কিছু অংশ অনুষ্ঠিত হয়েছে হাঙ্গেরির সীমান্তে । এতে ক্ষিপ্ত হয়েছে বুদাপেস্ট। সম্প্রতি হাঙ্গেরির সঙ্গে ইউক্রেনের তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ চলছে। মূলত ইউক্রেনের স্কুলে হাঙ্গেরীয় ভাষার ব্যবহার এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূতদের পাসপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধ।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি রয়টার্সকে বলেছেন হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন এই মহড়ার উদ্দেশ্য নয়। বরং পশ্চিম দিক থেকে রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা থেকেই ইউক্রেন মহড়ার আয়োজন করেছে। তার ভাষ্য, ‘আজভ সাগরে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলে আমাদের শক্তি- সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, যাতে আমরা রাশিয়ার উসকানির যথাযোগ্য জবাব দিতে পারি।’