ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) এক রায়ে বলেছে, ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) শিশুকামী বলাটা বাকস্বাধীনতার আওতায় পড়ে না। ইসলামের নবীকে শিশুকামী বলার অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন অস্ট্রিয়ান নারী যুক্তি দিয়েছিলেন, তার ভাষ্য বাক স্বাধীনতার অংশ। কিন্তু আদালত তার যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নারীকে শাস্তি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল অস্ট্রিয়ার আদালত বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) তার প্রশংসা করেছে ইসিএইচআর।
অভিযুক্ত অস্ট্রিয়ান নারী ২০০৯ সালে ইসলামের ওপর দুইটি সেমিনারের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি হযরত আয়েশার (রা.) সঙ্গে ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদের (রা.) দাম্পত্য সম্পর্ককে শিশুকামের সঙ্গে তুলনা করেন। এর প্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা হয়। আদালত সাজা হিসেবে তার বিরুদ্ধে জরিমানার আদেশ দেয়। কিন্তু রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে আপিল করেন অভিযুক্ত নারী। শেষ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান কোর্ট ফর হিউম্যান রাইটসে যায় মামলাটি। বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায়ে ইসলামের নবীকে শিশুকামী বলার বিরুদ্ধে আদেশ দেয় ইসিএইচআর। তাদের ভাষ্য, অস্ট্রিয়ার আদালত বাকস্বাধীনতার অধিকার ও অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বিধান করেছে। অস্ট্রিয়ায় ধর্মীয় বিষয়ে শান্তি বজায় রাখার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনেও তাদের রায় ভূমিকা রেখেছে।
ডয়েচে ভেলে লিখেছে, হযরত মোহাম্মদের (সা.) বয়স যখন ৫০ বছর তখন তিনি ৯ বছর বয়সের হযরত আয়েশার (রা.) সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক শুরু করেন। হযরত মোহাম্মদের (সা.) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রথম খলিফা হযরত আবু বকরের (রা.) মেয়ে ছিলেন আয়েশা৷ সেমিনারে অভিযুক্ত নারী মন্তব্য করেছিলেন, ‘শিশুদের সঙ্গে এটা করতে পছন্দ করতেন’ এবং ‘...একজন ৫৬ বছরের আর একজন ছয় বছরের? ...আমরা একে শিশুকাম ছাড়া আর কী বলতে পারি?’