সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যহারের পরও ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) ভাষণ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের কারণে একদিক থেকে তুরস্কের সুবিধাই হয়েছে। দেশটি কুর্দিদের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরোধিতা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করলে তারা সেই কুর্দিদের বিরুদ্ধেই হামলা চালাবার সুযোগ পাবে যারা এতদিন ধরে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছেন। সিরিয়াতে মোতায়েন করা প্রায় দুই হাজার সেনাকে ফিরে আনার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে তিনি এতদিন ধরে কার্যকর থাকা মধ্যপ্রাচ্য নীতির ‘মূলোৎপাটনই’ করেছেন কার্যত। সমালোচকরা মনে করেন, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের কারণে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ কোনও সমাধানে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে।
কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দেশটি কুর্দিদের সন্ত্রাসী মনে করে। তাদের দাবি ছিল, সিরিয়ায় কুর্দিদের সংগঠন ওয়াইপিজি আসলে তুরস্কে কুর্দিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পিকেকের শাখা। কুর্দি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পিকেকে তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার অংশবিশেষ নিয়ে কুর্দিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। পিকেকে তিন দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকে এ বিদ্রোহে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার ইস্তানবুলে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যহার করলেও তারা সিরিয়ায় থাকা আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। আর একাজের জন্য দরকার হলে তারা উত্তরপূর্ব সিরিয়ায় থাকা কুর্দিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা তারিখ পিছিয়ে দেবে।