বিশ্বজুড়ে বড়দিন পালিত

সিরিয়া-ইয়েমেন-ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান পোপের

বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়েছে বড়দিন। যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায় পার করেছে এক উৎসব মুখর পরিবেশে। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষণে এসেছে সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ স্থানের নাম। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, অভিবাসীদের প্রতি আরও উদার হওয়ার। তার প্রত্যাশা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের প্রতিষ্ঠা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বড়দিন পালন উপলক্ষে ইরাকের সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের কাছে পোপ পাঠিয়েছেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে, যাতে তিনি তাদের বড়দিন পালনে ‘সহায়তা’ করতে পারেন।2018-12-25T121633Z_936869621_RC1E8F0440D0_RTRMADP_3_CHRISTMAS-SEASON-POPE

খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। তাদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বের অনেক দেশেই দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষিত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৫) ডিসেম্বর পোপ ফ্রান্সিস দিবসটি উপলক্ষে এক বিশেষ ভাষণ দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাষণের নাম ‘উরবি এট ওরবি’ ভাষণ, যার অর্থ ‘নগর ও বিশ্বের প্রতি’ আহ্বান।

পোপ বলেছেন, ‘বড় দিন উপলক্ষে আমার প্রত্যাশা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখার। আমি চাই ব্যক্তি, দেশ, সংস্কৃতি নির্বিশেষে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। আমার মনে পড়ছে ইয়েমেনের কথা। আমি আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সেখানে কার্যকর হয়েছে তা যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত নারী ও শিশুদের মুক্তি দেবে।’

2018-12-25T112240Z_757026344_RC126BBC1800_RTRMADP_3_CHRISTMAS-SEASON-POPEসিরিয়াতেও একটি রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জোরদার প্রচেষ্টার প্রত্যাশা জানিয়ে পোপ বলেছেন, ‘যুদ্ধের কারণে সিরিয়ার যেসব মানুষ নিজের ভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে তারা যেন নিজের দেশে ফিরে গিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’
বড়দিনে অভিবাসীদের নিয়ে পোপের মূল্যায়ন, ‘ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির মধ্যে ভালোবাসা, একে অপরকে গ্রহণ করতে পারা ও পরস্পরকে শ্রদ্ধা করার বৈশিষ্ট্য দেখতে চান। আমাদের ভিন্নতা কোনও বিপদের সূচক নয়, বরং তা সৌন্দর্যের উৎস।’
ফ্রান্সিস আশা প্রকাশ করেছেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল শান্তির পথে যাত্রা করবে, যাতে সেই ভূমিতে সংঘাতের ইতি টানা যায়, ‘যে ভূমিতে যিশু আবির্ভূত হয়েছিলেন।’
বিবিসি জানিয়েছে, পোপ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিকূল পরিবেশে যেসব ছোট ছোট খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীগুলো বসবাস করছে, তাদের প্রতিও পোপ বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন। ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিনকে ইরাকে পাঠিয়েছেন তিনি, যাতে পারোলিন ইরাকের খ্রিস্টানদের বড়দিন উদযাপনে ‘সহায়তা’ করতে পারেন।