কামড়ের ভয় নেই নিশ্চিত হয়েই নানকে চুমু দিলেন পোপ

সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে নতুন বছরের সন্ধ্যায় শুভেচ্ছা জানাতে আসা নারীর হাতে চাপড় মেরে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস। ফের যাতে বিতর্কে না পড়েন তাই এবার আগেভাগেই সাবধান হলেন ৮৩ বছরের পোপ। আশীর্বাদ নিতে আসা একজন নান পোপের কাছে চুমু দাবি করলে কৌতুক করে তিনি বলেন, কামড় না দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তিনি চুমু দেবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এখবর জানিয়েছে।

789

বুধবার ভ্যাটিকান অডিটোরিয়ামে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল পোপ ফ্রান্সিসের। সপ্তাহের এইদিনে পোপের কথা শুনতে বহু মানুষ ভিড় জমান অডিটোরিয়ামে। পোপ প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই কোলাহল শুরু হয়ে যায়। ব্যারিকেডের ওপার থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান অনুগামীরা। পোপ ফ্রান্সিসও শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তাদের। এসময় পোপের সামনে এসে দাঁড়ান একজন নান। প্রথমে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পোপের কাছ থেকে আশীর্বাদ স্বরূপ একটি চুমু চেয়ে বসেন।

নববর্ষের সন্ধ্যার ঘটনা মনে করে এবার  পোপ সাবধান ছিলেন। মজা করে নানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি কামড় দেন! কথা দেন কামড় দেবেন না?’ তখন নান মাথা নাড়েন এবং পোপ তার গালে চুমু দেন।

এরপর পোপ সমবেত হওয়া অন্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে থাকেন।

পোপ ফ্রান্সিসকে দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। একবার পোপকে ছুঁয়ে দেখার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু যায় ভক্তদের মধ্যে। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে নববর্ষের সন্ধ্যায় এক নারী ভক্ত পোপকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ পোপের হাত ধরে রেখেছিলেন তিনি। পোপের হাত ধরে টানাটানি করতেও দেখা যায় তাকে। বাধ্য হয়েই হাত ছাড়াতে মৃদু চাপড় মারতে হয় ভ্যাটিকানের পোপকে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। পোপের মুখে বিরক্তির ছায়া দেখে অনেকেই সমালোচনা শুরু করেন। একজন শান্তির দূতের এমনভাবে বিরক্ত হওয়া ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

ওই ঘটনার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময়ই ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলি। ছোট ছোট ব্যাপারে বিরক্ত হই, এগুলো খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। আমার বিরক্ত হওয়া উচিত হয়নি। এটি আচরণের একটা খারাপ দিক। এ জন্য আমি দুঃখিত।’