করোনায় পোল্যান্ডে ভুতুড়ে নির্বাচন

করোনাভাইরাস মহামারিতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হয়েছে। রবিবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল শূন্য শতাংশ। সরকারিভাবে ভোট বাতিল না হলেও ভোটকেন্দ্র বন্ধ ছিল। ফলে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কয়েক সপ্তাহের আইনি লড়াই পর এমন ভুতুড়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

5598

ক্ষমতাসীন ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। দলটির পক্ষ থেকে করোনা মহামারিতেও নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।

ক্ষমতাসীন আন্দ্রেজ ডুডা নির্বাচনে ফেভারিট ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, মহামারি পরিস্থিতিতে ভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বে তার জয়ী হওয়ার সুযোগ বাড়াতে চাইছে। বুধবার পর্যন্ত সরকার ডাক ভোটের (পোস্টাল) পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

বাম ঘরানার এক এমপি টমাস ট্রেলা বলেন, ভোটকেন্দ্র বন্ধ। যার অর্থ হচ্ছে কেউ হয়ত নির্বাচন বাতিল করেছে। কিন্তু এটি স্পষ্ট নয় কে করেছে বা কিসের ভিত্তিতে।

বিরোধীরা মনে করে, স্বাভাবিক সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হলে ডুডার জন্য জয় কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে করোনা লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে। তাদের দাবি ছিল, সরকার জরুরি অবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি জারি করুক। উভয়ক্ষেত্রেই নির্বাচন বাতিল হয়ে যেত। কিন্তু সরকার এমন পদক্ষেপ নেয়নি।

মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় ৩৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার পোল্যান্ডে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৮০০ জনের।

জাতীয় নির্বাচন দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন নির্বাচনে তারিখ ঠিক করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যা ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আবারও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পুরো নির্বাচন পোস্টাল ভোটে না সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিলভেস্টার মার্সিনিয়াক বলেছেন, তিনি আশা করছেন পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি হবে যাতে করে পূর্ণ গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।