ইইউ’র নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ভীত নয় তুরস্ক: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ভীত নয় তুরস্ক। বুধবার তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

20201130_2_45622689_60213148

আজারবাইজান সফরে রওনা দেওয়ার আগে এরদোয়ান বলেন, সরকারিভাবে ১৯৬৩ সাল থেকে ইইউ নিয়মিত আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে। ইইউ কখনও সৎ ছিল না এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। কিন্তু আমরা সব সময় ধৈর্যশীল ছিলাম।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তুরস্ক অপেক্ষা করবে এবং দেখবে ইইউ কী সিদ্ধান্ত নেয়। যেসব নেতা সৎ এবং নিষ্ঠাবান, তারা তুরস্কের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপকে অনুমোদন দিচ্ছেন না।

তুরস্কের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে ইইউ। ভূমধ্যসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

গ্রিসের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, অ্যাথেন্স আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে রাজি না।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে আমরা নিজেদের অধিকার রক্ষা করে যাবো। সেখানে কোনও ছাড় দেওয়া আমাদের পক্ষে কখনও সম্ভব না। কিন্তু গ্রিস যদি সত্যিকার প্রতিবেশী হিসেবে সৎ থাকে তাহলে আমরা আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি।

গত আগস্ট মাস থেকে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে বিতর্ক চলছে। ভূমধ্যসাগরের একটি অংশে খনিজ তেলের সন্ধান মিলেছে। কীভাবে সেই তেল উত্তোলন করা সম্ভব তা দেখার জন্য সেখানে জাহাজ পাঠিয়েছে তুরস্ক। কিন্তু গ্রিসের দাবি ওই এলাকা তাদের। ফলে দ্রুত তুরস্ককে জাহাজ সরিয়ে নিতে বলে তারা।
গত চার মাসে তুরস্ক একবারই কেবল ভূমধ্যসাগরের ওই এলাকা থেকে জাহাজ সরিয়েছিল। কিন্তু তারপর আবার তারা সেখানে জাহাজ পাঠায়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানিয়ে দেন, তেল উত্তোলনের পরীক্ষা জারি থাকবে। কারও নিষেধ তুরস্ক মানবে না। কারণ, ওই এলাকা গ্রিসের নয়।
ইইউ দীর্ঘদিন ধরেই এই বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছে। গ্রিসের পাশাপাশি তারাও তুরস্ককে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তুরস্ক তাতে কান দেয়নি। ইইউ চেষ্টা করেছিল গ্রিস, তুরস্ক ও সাইপ্রাসকে একসঙ্গে বসিয়ে বৈঠক করার। কিন্তু তাও সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতেই সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়। সেখানে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।