চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞায় একমত ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা

মানবাধিকার নিপীড়নে যুক্ত চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জোটটির দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালের পর  বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম নিষেধাজ্ঞা। ওই বছর তিয়েনমেন স্কয়ারে অভিযানের পর চীনের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার চীন। ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আরোপ করা ইউরোপের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘ দিন থেকে চীনের কাঠামোগত মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা হরণের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ব্রাসেলস। ওই উদ্বেগ থেকেই তিন দশকের বেশি সময় পর চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউ কূটনীতিকেরা চীনের চার ব্যক্তি ও একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পত্তি জব্দ করার অনুমোদন দিয়েছেন। তবে আগামী ২২ মার্চ ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিষেধাজ্ঞার নতুন তালিকা প্রকাশের আগে এসব ব্যক্তি এবং সংস্থার নাম জানানো হবে না। এক ইইউ কূটনীতিক বলেন, মারাত্মক মানবাধিকর লঙ্ঘনকারী এবং নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।‘

চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেশটির উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার হরণের অভিযোগ রয়েছে। এক ইইউ কূটনীতিক বলেন এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসকারী উইঘুরদের নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে।

অ্যাকটিভিস্ট এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম জিনজিয়াংয়ের আটক শিবিরে রয়েছে অন্তত দশ লাখ উইঘুর রয়েছে। অ্যাক্টিভিস্ট এবং পশ্চিমা রাজনীতিবিদদের অভিযোগ, চীন সেখানে নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম শোষণ এবং বন্ধ্যাত্বকরণ চালাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চীনা দূতাবাসের এক টুইটার বার্তায় বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিজেদের নীতি বদলাবে না বেইজিং। টুইট বার্তায় বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা সাংঘর্ষিক। আমরা আলোচনা চাই, সংঘাত নয়। আমরা ইইউ পক্ষকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বলবো। কেউ যদি সংঘাতের ওপর জোর দেয়, আমরা পিছু হটবো না কারণ জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনও বিকল্প আমাদের নেই।’

জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি উগ্রপন্থা মোকাবিলায় ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইইউ দূতদের একাধিকবার জিনজিয়াং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বেইজিং। তবে কূটনীতিকেরা বলেছেন, কঠোর শর্ত এবং চীনা কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে সফর করবেন না তারা।