বিশ্বে কয়েক কোটি মানুষ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং আরও অনেকেই নেবেন। ভ্যাকসিন নেওয়া মানুষদের অনেকেরই হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে ছিল হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে ওঠা ও অবসাদ। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেখা দেয়। ভ্যাকসিন যে সত্যি কাজ করছে, এটি তারই ইঙ্গিত। অবশ্য অনেকের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোট গ্যাভি-এর তথ্য অনুসারে, আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে শরীরের ইমিউন ব্যবস্থা এতে সাড়া দেয়। এভাবেই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে।
ভ্যাকসিন শরীরে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে ইমিউন ব্যবস্থা ভাইরাসটির নিষ্ক্রিয় করা অবস্থাকে চিনতে পারার পর সক্রিয়তা দেখায়। এরপর ভাইরাল প্রোটিন বা জেনেটিক নির্দেশনা পায় প্রোটিন তৈরির জন্য। এটি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে করে পরে এমন ধরনের ভাইরাস ইমিউন ব্যবস্থায় ধরা পড়লে শরীরকে এটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম করে তুলে। এই প্রক্রিয়ায় ইমিউন রিঅ্যাকশন শুরু হয়। এতে প্রকৃত সংক্রমিতের মতো উপসর্গ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
গ্যাভি-র মতে, এর ফলেই যারা ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি দেখা দিতে পারে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময়ও এমনটি ঘটতে পারে।
সম্প্রতি পরিচালিত ছোট আকারের দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের এমআরএনএ ভ্যাকসিনের একটি ডোজ যথেষ্ট হতে পারে। তবে এটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অধিকতর গবেষণা প্রয়োজন।
একটি গবেষণায় মডার্না ও ফাইজার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের পর প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২৩১ জনকে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাদের মধ্যে পুরো শরীরে প্রতিক্রিয়া ছিল সাধারণ।
এই ফলাফলের সঙ্গে জেডওই কোভিড সিম্পটম গবেষণার সাদৃশ্য রয়েছে। এতে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ৪০ লাখ অংশগ্রহণকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হওয়া মানুষদের ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন নেওয়ার একটির বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আক্রান্ত না হওয়াদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ছিল অবসাদ (৯%), মাথাব্যথা (৮%), ঠাণ্ডা বা শিহরণ (৪%)। এগুলো ভ্যাকসিন নেওয়া প্রথম দুদিনের মধ্যে দেখা দিয়েছে।
গ্যাভি বিশ্বের প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে থাকে। এই জোটের প্রধান অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।