যাত্রীদের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার কারণে শুক্রবার স্পেনের একটি ব্যস্ততম বিমানবন্দরের কার্যক্রম চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মরক্কো থেকে তুরস্কগামী একটি ফ্লাইট পালমা ডি মালোরকাতে জরুরি অবতরণের পর ২১ যাত্রী রানওয়েতে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে করে সাময়িক সময়ের জন্য বিমানবন্দরটি কার্যক্রম বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে তুরস্কের ইস্তানবুল যাওয়ার পথে এয়ার অ্যারাবিয়া মারোকের ফ্লাইটকে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার কারণে স্পেনের পালমা ডি মালোরকাতে পাঠানো হয়। বিমানটি অবতরণের পর ২১ যাত্রী রানওয়েতে নেমে দৌড়ে বেস্টনি পার হওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতার করলেও শনিবার পর্যন্ত বাকিরা পলাতক রয়েছে।
বিমান থেকে যাত্রীদের পালিয়ে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি তা অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশের ষড়যন্ত্র ছিল তা তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বালিয়ারিক আইল্যান্ডের শীর্ষ স্পেনিশ সরকারি কর্মকর্তা আইনা কালভো জানান, বিমানবন্দরটিতে এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি।
এই নাটকের সূত্রপাত হয় যখন এয়ার অ্যারাবিয়া মারোক বিমানের এক মরোক্কান যাত্রী ডায়বেটিক কোমায় চলে যাওয়াতে বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। অবতরণের পর ওই ব্যক্তিকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও ২১ যাত্রী রানওয়েতে নেমে পড়ে এবং বিমানবন্দরে থাকা বিমানের নিচে লুকিয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর একটি হাসপাতাল মরক্কোর ওই নাগরিক সুস্থ বলে জানা গেছে এবং ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাব স্পেনে প্রবেশের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া আরেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগকে গুয়ারদিয়া সিভিল এলাকায় পাওয়া গেছে। একজনকে মানাকোরগামী রাস্তায় হাঁটার সময় গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় প্রায় ৬০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে অন্যত্র পাঠানো বা বিলম্বের মুখে পড়ে। পরে অবশিষ্ট যাত্রীদের নিয়ে বিমানটি তুরস্কে যাত্রা জারি রাখে।