ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরে সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন ১ লাখ সদস্য রিক্রুট এবং সেনা সদস্যদের বেতন বাড়ানো হবে। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়ার আক্রমণ আসন্ন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের আইনপ্রণেতাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। একই সময়ে তিনি নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন ও পোল্যান্ডের নেতাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে ছিলেন। ন্যাটো জোটের এই তিন সদস্য রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কিয়েভের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন তুলে ধরছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে সীমান্তে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করেছেন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা। কিন্তু রাশিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অবশ্য জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের রুশ পদক্ষেপ নিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর বিস্তৃতির জন্য তিনি এই ডিক্রি জারি করেছেন। শিগগিরই যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে নয়। এটি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যাতে দ্রুত এবং ভবিষ্যতে ইউক্রেনে শান্তি বজায় থাকে।
জেলেনস্কি বলেন, দেশের রাজনীতিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারের বিরোধী অবস্থানে যে কেউ থাকতে পারে। কিন্তু তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সরকার, প্রেসিডেন্টকে অবজ্ঞা করতে পারেন। কিন্তু নিজেদের জনগণকে অবজ্ঞা করতে পারেন না, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আতঙ্ক ছড়াতে পারেন না।
বর্তমানে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। বিপরীতে রাশিয়ার সেনা সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ।