ইউক্রেন সীমান্তে বেলারুশের সেনাদের সঙ্গে রুশ সেনারা একীভূত হলে বাল্টিক দেশ ও পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ইনগ্রিডা সিমোনাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এটি আমাদের প্রজন্মের জন্য ১৯৩৮ সালের মুহূর্ত। নিরপেক্ষতা সব সময় নিপীড়ককে সহযোগিতা করে, কখনোই নিপীড়িতদের নয়। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সিমোনাইটের। ইউরোপীয় যেসব রাজনীতিক গণতন্ত্রকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে এবং স্বৈরাচারিতার মুখোশ উন্মোচন করতে চান লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাদের একজন। তার অবস্থানের কারণে শুধু রাশিয়া নয়, চীনের সঙ্গেও আদর্শগত সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির ২৮ লাখ মানুষ।
লিথুয়ানিয়ায় পটাশ রফতানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে বেলারুশ। তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যালয় চালু করায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে ও চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ সরাতে চাপ দিয়ে শায়েস্তা করছে চীন। যুক্তরাজ্য লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে চীনের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ করতে যাচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাশক্তিদের কাছ দুটি হুমকি দেখিয়ে দিয়েছে পশ্চিমাদের নিজেদের নিয়ে সংশয়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আত্মতুষ্টি পরিহার করতে হবে। প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত কথা বলা, ভয় পাওয়া নয়। আমরা কখনোই রাজপথে জড়ো হওয়া মানুষের স্বৈরাচারিতার দাবি জানাতে দেখিনি।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ২০২০ সালের আগস্টের নির্বাচন ও বিক্ষোভের পর লুকাশেঙ্কোর সামনে করণীয় নিয়ে বিকল্প নেই। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে খুশি করতে চেয়েছিলেন, অর্থের জন্য কিছু বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি দ্বৈত কৌশল অবলম্বন করে আসছিলেন। কিন্তু এখন আর তিনি তা করতে পারছেন না। কেউ তাকে বেলারুশের নেতা মনে করে না। তার অর্থের প্রয়োজন এবং রাশিয়া টিকে থাকতে সহযোগিতা করছে। তিনি তাদের ওপর নির্ভরশীল।
লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেলারুশে এখনকার রুশ সেনা উপস্থিতি অনির্ধারিত। ২০২১ সালে রাশিয়ার একটি সামরিক অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। যদি এই মহড়া, অস্ত্র ও সেনা যদি অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করে তাহলে হিসাব পাল্টে যাবে। এর অর্থ হবে অঞ্চলটিতে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো হবে, মস্কোর দাবি মতো এটি উসকানি হবে না। যা হবে ন্যাটো সীমান্তে পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া। অঞ্চলটি এখন অস্ত্রে পরিপূর্ণ। দক্ষিণের সেনাদের রাশিয়া খুব দ্রুত অন্যত্র মোতায়েন করতে পারবে। হাইব্রিড হামলার আরও উপায় রয়েছে। পাইপলাইনের কাজ থেমে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত এই শাসকরা এভাবেই কাজ করে। কোনও রেড লাইন নেই যা তারা অতিক্রম করবে না।