প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরুর পর বিশ্বনেতারা বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক নেতা এটিকে ‘এটি অযৌক্তিক বর্বর কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপর নেতারা নিষেধাজ্ঞা কঠোর ও ক্রেমলিনকে জবাবদিহি করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে এই আক্রমণের আশঙ্কা বিরাজ করছিল। হামলার শুরুর পর তা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইউরোপ থেকে এশিয়ায়। শেয়ার বাজারে দরপতন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ইউক্রেনের ওপর দিয়ে বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনায় ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় অ্যাভিয়েশন কর্মকর্তারা। তারা ইউক্রেনের আকাশসীমাকে সংঘাত কবলিত অঞ্চল হিসেবে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক আয়োজন করে। ইউক্রেনে রুশ পাঠানো ঠেকানোর চেষ্টা ছিল এই বৈঠকের। রাশিয়ার টেলিভিশনে ভ্লাদিমির পুতিন আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শান্তিকে একটি সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
পুতিন ভাষণে বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহীরা মস্কোর কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে। অন্য দেশগুলো রাশিয়ার অভিযানে হস্তক্ষেপ করলে নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এশিয়া থেকে ইউরোপের নেতারা যখন হামলার সমালোচনা করছেন তখন কিয়েভ ও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার আগেই একাধিক দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বলেন, এই অন্ধকার সময়ে আমাদের ভাবনা ইউক্রেন ও নিষ্পাপ নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে রয়েছে। যারা বিনা প্ররোচনার এই হামলার শিকা এবং নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন টুইটারে লিখেছেন, আমরা ক্রেমলিনকে জবাবদিহি করব।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধান বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের ও গুরুতর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস রাশিয়ার হামলাকে ইউক্রেনের জন্য একটি ভয়াবহ এবং ইউরোপের জন্য অন্ধকার দিন ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনও কিছু দিয়েই এটিকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।
চেক প্রধানমন্ত্রী পেট্রা ফিয়ালা রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এ রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলাকে বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে একেবারে অযৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হেগের হামলাকে ‘অযৌক্তিক বর্বর কাজ’ বলেছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, তথ্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আমরা নিজেদের প্রচেষ্টা জারি রাখছি। ইউক্রেনে জাপানের নাগরিকদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতির পুরো পর্যালোচনা শেষে আমরা তা উপযুক্তভাবে মোকাবিলা করব।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করা চীন ইউক্রেনে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ঘরে থাকতে এবং তাদের গাড়িতে চীনের পতাকা লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব শুক্রবার আইনে পরিণত হবে। কিন্তু মার্চের আগে তা কার্যকর হবে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের আট সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।