পশ্চিমাদের রুশ নীতির পরিবর্তন ঘটালেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ আক্রমণ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির সাহসী মানুষেরা পশ্চিমাদের রুশ নীতির অনেকটাই পাল্টে দিয়েছেন। শীতল যুদ্ধের পর গত ত্রিশ বছরে এত বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ইউক্রেনীয় নেতার দৃঢ়তায় অনুপ্রাণিত ও লজ্জিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়াকে বিশ্বে অচ্যুত করে তুলতে পদক্ষেপ নিচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে। জেলেনস্কিকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যার  ফলে ন্যাটো সদস্য না হলেও ইউক্রেনে মস্কোর সঙ্গে পশ্চিমাদের একটি ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ব্লকটি প্রতিরক্ষা সমঝোতায় সরাসরি উপকৃত হবে।

ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন নিয়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলে আসছিল। কিন্তু আক্রমণ শুরুর পর এসব দেশ ব্যক্তিগতভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক নেটওয়ার্ক সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবস্থান পরিবর্তন ঘটেছে জার্মানির। আক্রমণ শুরুর দ্বিতীয় দিনেও ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে রাজি ছিল না দেশটি। কিন্তু তৃতীয় দিনে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র দিতে রাজি হয় জার্মানি। একই সঙ্গে রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনের অনুমোদনও আটকে দিয়েছে বার্লিন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন। তাকে পুতিনের শিষ্য মনে করা হতো। একইভাবে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও রাশিয়ার নিন্দা করেছেন। তিনি ১৯৩০ সালের একটি আইন সক্রিয় করেছেন, যাতে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবাহিনীর চলাচল সংকটে পড়তে পারে।

আর ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার কোটিপতিদের সম্পর্কে চোখ বন্ধ করে রাখলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা দিয়েছেন, অবৈধ অর্থের কোনও জায়গা নেই ব্রিটেনে। বিনিয়োগের সুবিধায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও বাতিল করেছে দেশটি।

এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে পুতিনকে ‘জিনিয়াস’ বলে উল্লেখ করলেও শনিবার জেলেনস্কির সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা বিশ্বের মানুষেরও মন জয় করেছে। অনেক ছোট ছোট সমর্থনের ঝড় উঠেছে। ফর্মুলা ওয়ান এবং ইউরোপীয় ফুটবল প্রধান রাশিয়া থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে বাতিল হয়েছে রুশ ব্যালে অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে রুশ নির্মিত ভদকা তাক থেকে নামিয়ে ফেলা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন