রাশিয়ার পারমাণবিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি বিশেষ অধিবেশনে পারমাণবিক সংঘাতের ধারণাকে তিনি ‘অচিন্তনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
১৯৫৬ সালের পর এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম জরুরি বিশেষ অধিবেশন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, ইউক্রেনের জন্য বিশ্ব শুধু একটি ট্র্যাজেডিরই মুখোমুখি হচ্ছে না বরং এর ‘সম্ভাব্য বিপর্যয়কর’ প্রভাবসহ একটি বড় আঞ্চলিক সংকটও রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কোনও কিছুই পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা কয়েক মিনিটের মাথায় বেড়ে যাওয়ার বাস্তবতায় ইউরোপের সবচেয়ে খারাপ মানবিক এবং শরণার্থী সংকট দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই জরুরি বিশেষ অধিবেশন থেকে বুধবার একটি প্রস্তাব পাস হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কেননা, এখানে কারও ভেটো দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের মতো এটির আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।
এর আগে রবিবার রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ‘আক্রমণাত্মক বিবৃতি’র প্রতিক্রিয়ায় এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন এ নির্দেশ দেন।
পুতিন বলেছেন, ‘ন্যাটোর নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বিবৃতি দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। তাই আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রতিরোধ বাহিনীকে যুদ্ধকালীন সময়ের বিশেষ অবস্থায় রাখার নির্দেশ দিচ্ছি।’ তার ওই ঘোষণার পরদিনই সোমবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে অযৌক্তিক ও অকল্পনীয় হিসেবে আখ্যা দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।