প্রতাপশালী রুশ সেনাবাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও দেশটির জনগণ। হামলা শুরু হওয়ার পাঁচ দিন গড়িয়ে গেলেও রাজধানী কিয়েভ এখনও দখলে নিতে পারেনি রুশ হামলাকারীরা। এই কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন সামনে থেকে নেতৃত্বে দেওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশপ্রেমী জনগণ। দেশের হয়ে লড়তে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অনেকেই।
রাশিয়ার আক্রমণের ফলে অনেকেই ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এর বিরুদ্ধে স্রোতও রয়েছে। সংখ্যায় তারা কম হলেও দেশাত্ববোধের মানসিকতার কারণে তাদের কথা উঠে আসছে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তের প্রেজেমিসল এলাকায় স্বামী, বাবা, ভাই ও ছেলেদের লড়াইয়ের জন্য পেছনে রেখে দুই হাতে বহন করার মতো জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। কিন্তু এর বিপরীত একটি স্রোতও রয়েছে। যাতে ৪৫ বছরের কম বয়সী পুরুষরা নারী ও শিশুদের উল্টো দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন দেশকে রক্ষার জন্য ইউক্রেনে ফিরছিলেন। এরা বেশিরভাগ ইউক্রেনের নাগরিক, কিন্তু বসবাস করছিলেন বিদেশে। বিবিসিকে তাদের কয়েকজন তারা সুদূর কানাডা থেকেও যোগ দিচ্ছেন।
বিবিসি’র প্রতিবেদক ইউক্রেনগামী একটি ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমি একজন কর্পোরাল ছিলাম। ২০১৭ সাল থেকে আমি পোল্যান্ডে কাজ করছি। এখন আমাকে যুদ্ধে যেতে দ্রুত ফিরতে হবে। আমি সেনাবাহিনীতে কাজ করেছি, তাই আমাকে অবশ্যই ফিরতে হবে।’
ভীত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি ভীত নই কারণ আমি দেশকে রক্ষায় যাচ্ছি। আমি পোল্যান্ডে অর্থ উপার্জন করি। কিন্তু ইউক্রেন আমার দেশ, আমার ভূমি। আমাকে অবশ্যই দেশকে রক্ষা করতে। আমাকে দেশে ফিরতে হবে এবং দেশকে রক্ষা করতে হবে।’
মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার দেশের জন্য আমি মরতে প্রস্তুত।’
রবিবার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিতে পুরো দুনিয়ার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।