খেরসন বিমানবন্দরে রাশিয়ার তিন সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করলো ইউক্রেন

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির খেরসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাশিয়ার অন্তত তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করে দিয়েছে। প্ল্যানেট ল্যাবসের নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে উঠে এসেছে এমন তথ্য। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

স্যাটেলাইট ইমেজে বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। ইমেজের একটি জুম-ইন অংশে হেলিকপ্টারগুলোকে জ্বলতে দেখা যায়।

সিএনএনের প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে চলমান যুদ্ধে রুশ কপ্টারের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। খেরসন বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় থাকা রাশিয়ার সামরিক যানগুলোও এদিন আক্রান্ত হয়েছে।

ইন্টারনেটের সাহায্যে ভৌগোলিক অবস্থান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এসব স্যাটেলাইট ইমেজের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিএনএন।

নাসার ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফআইআরএমএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪২ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগের দিন সোমবার কিয়েভের উপকণ্ঠে জঙ্গলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। নিজেদের দাবির সমর্থনে ড্রোন থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা। ফুটেজটি ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তবে ইন্টারনেটের সাহায্যে ভৌগোলিক অবস্থান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিএনএন জানিয়েছে, কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে ওজেরা গ্রামের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। নাসার স্যাটেলাইট সংবেদনশীল ডেটা বলছে, ১১ মার্চ অঞ্চলটির চারপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর দেশটি অভিমুখে যাত্রা করে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর। তবে তিন সপ্তাহ হতে চললেও এখনও কিয়েভে প্রবেশ করতে পারেনি বহরটি। স্যাটেলাইট ইমেজের তথ্য বলছে, কিয়েভের বাইরের বনাঞ্চল ও শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ওই বহর। সপ্তাহখানেক আগে ম্যাক্সার টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামানের ৪০ মাইল দীর্ঘ কনভয় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কিয়েভের উত্তরে স্থবির থাকার পরে বেশিরভাগই কাছাকাছি শহর এবং বনাঞ্চলের দিকে চলে গেছে। তবে কিয়েভের বাইরের জঙ্গলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থানে হামলার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি ওই বহরের অংশ কিনা সে ব্যাপারে ইউক্রেনের তরফে  কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।