ইউক্রেনে নিজেদের একজন নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
ওই ব্যক্তি ১৭ মার্চ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ছাড়া আমাদের আর কোনও মন্তব্য নেই।’
বৃহস্পতিবার অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের ঘোষণার আগেই ইউক্রেনের একজন কর্মকর্তা দেশটিতে একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানান।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দেশটির বিরুদ্ধে হাসপাতাল থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন, এমনকি শিশুদের স্কুলেও গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে সহস্রাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। তবে ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হালনাগাদ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোতে রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি কিয়েভের উপকণ্ঠে জঙ্গলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। নিজেদের দাবির সমর্থনে ড্রোন থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা। ফুটেজটি ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তবে ইন্টারনেটের সাহায্যে ভৌগোলিক অবস্থান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিএনএন জানিয়েছে, কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে ওজেরা গ্রামের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। নাসার স্যাটেলাইট সংবেদনশীল ডেটা বলছে, ১১ মার্চ অঞ্চলটির চারপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর দেশটি অভিমুখে যাত্রা করে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর। তবে তিন সপ্তাহ পরও এখনও কিয়েভে প্রবেশ করতে পারেনি বহরটি। স্যাটেলাইট ইমেজের তথ্য বলছে, কিয়েভের বাইরের বনাঞ্চল ও শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ওই বহর। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামানের ৪০ মাইল দীর্ঘ কনভয় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কিয়েভের উত্তরে স্থবির থাকার পরে বেশিরভাগই কাছাকাছি শহর এবং বনাঞ্চলের দিকে চলে গেছে। তবে কিয়েভের বাইরের জঙ্গলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থানে হামলার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি ওই বহরের অংশ কিনা সে ব্যাপারে ইউক্রেনের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।